ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রাইম ব্যাংকের এজেন্ট

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের এক এজেন্ট। গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয় মানুষের জমানো টাকা নিয়ে তিনি উধাও হন। এলাকাবাসীর দাবি, প্রাইম ব্যাংকের এজেন্ট সুমন আলী মন্ডল ২ থেকে ৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাটি বন্ধ রয়েছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ জীবনের শেষ সম্বল জমা রেখেছিলেন প্রাইম ব্যাংকের ধোপাপাড়া এজেন্ট শাখায়। তবে অনেকের অভিযোগ, টাকা জমা নেওয়ার পর কাউকে ব্যাংকের রসিদ এবং কাউকে নিজস্ব খাতায় লিখে হিসাব দেখিয়ে লেনদেন চালিয়ে যেতেন ওই এজেন্ট।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা ব্যাংকে জমা না করে নিজের কাছেই রেখে দিতেন তিনি। গ্রাহকদের শুধু ব্যাংকের রসিদ দেওয়া হতো। ওই এজেন্ট শাখাটি পরিচালিত হতো পুঠিয়ার বানেশ্বর প্রাইম ব্যাংক শাখার অধীনে। শাখাটির নাম ‘ছালেহা ট্রেডার্স’। ধোপাপাড়া এলাকার মনসুর আলী মন্ডলের ছেলে সুমন আলী মন্ডল সেখানে প্রাইম ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনা করতেন।

প্রতিদিন সকাল থেকে ধোপাপাড়া এজেন্ট শাখা ও প্রাইম ব্যাংকের বানেশ্বর শাখায় ভিড় করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের মধ্যে টিভি মেকানিক শামীম আহমেদ জানান, তিনি ছয় লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। তার কাছে প্রাইম ব্যাংকের রসিদও রয়েছে। কিন্তু এখন তার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। মেয়ের বিয়ে ও ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য তিনি টাকাগুলো জমিয়েছিলেন।

ধোপাপাড়া হাটের পাহারাদার আজাহার আলী জানান, তিনি ও তার স্ত্রী মিলে ওই শাখায় প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। এখন এমন পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে জানান তিনি।

এজেন্ট ব্যাংকের বিপরীতে থাকা এক ভ্যারাইটি দোকানদার আক্কাস আলী দাবি করেন, তিনি ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। ছাগল পালন করে জীবনযাপন করা বিধবা মমতা বেগম তার সারা জীবনের সঞ্চয় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জমা করেছিলেন সেখানে। এ ছাড়া এক বৃদ্ধা নারী তার ৫০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। তার ছেলের অভিযোগ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেওয়ার কথা বলে ওই নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে টাকা তুলে নিয়েছেন সুমন আলী।

এমন বহু গ্রাহক প্রতিদিনই ভিড় করছেন এজেন্ট ব্যাংক শাখা ও সুমনের বাড়িতে। ভোলা নামের এক ব্যক্তি জানান, বিদেশে শ্রম দিয়ে উপার্জিত সব টাকা তিনি ওই ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন। এখন সেই টাকা হারিয়ে তিনি পথে বসেছেন।

সুমনের বাবা মনসুর আলী মন্ডল বলেন, ‘আমার ছেলে গত ১৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ। এরপর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। প্রতিদিন মানুষ টাকার জন্য বাড়িতে আসছেন। গ্রাহকদের কাছে দেওয়া সুমনের মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।’

প্রাইম ব্যাংকের বানেশ্বর শাখার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বেশ কয়েকজন মানুষ এমন অভিযোগ নিয়ে এসেছেন।’ তবে এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’