রাজশাহীর তানোর উপজেলার চৌবাড়িয়া হাটে প্রবেশের প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ। এদিকে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার গোপনে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই ইউজিপি প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি প্যাকেজে টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সড়কের দুরবস্থার ভিডিও প্রকাশ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত সড়কটি উঁচু করে আরসিসি নির্মাণ এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, প্রতি শুক্রবার বসে চৌবাড়িয়া হাট। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে হাজারো গরু-ছাগল ব্যবসায়ী এই হাটে আসেন। হাটে চারটি দিক থেকে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তানোর দিকের প্রবেশ সড়কটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের গর্তে ইট ফেলা হলেও প্রয়োজনীয় বালু ব্যবহার না করায় বৃষ্টির পানিতে তা কাদায় পরিণত হয়েছে। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে লবাতলা ব্রিজের উত্তরাংশ ও বেলপুকুরিয়া মোড়েও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালের শেষ দিকে তানোর উপজেলা সদর থেকে চৌবাড়িয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও নির্মাণে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুরোনো কার্পেটিং অপসারণ না করে তার ওপর নতুন কার্পেটিং করা হয়েছিল। ফলে তিন বছরের মধ্যেই সড়কটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং একাধিকবার সংস্কার করেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, সড়ক নির্মাণের পর অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হাটে প্রবেশের অংশটি নিচু হওয়ায় সেখানে পানি জমে থাকে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সড়কটি উঁচু করে আরসিসি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জুন ক্লোজিংয়ের সময় প্রায় ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার গোপনে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, যথাযথ প্রচার ছাড়া সীমিত পরিসরে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, কোনো গোপন টেন্ডার হয়নি। ইউজিপি প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি প্যাকেজে নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্যাকেজের মাধ্যমে টিন ও সেলাই মেশিন কেনা হয়েছে এবং শিগগিরই সেগুলো বিতরণ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন