জিমে যাওয়া মানুষ, দৌড়বিদ কিংবা নিয়মিত শরীরচর্চা করা কিশোর-কিশোরীদের অভিভাবকদের জন্য এটি খুব পরিচিত একটি সমস্যা—ঘামে ভেজা টি-শার্ট, দুর্গন্ধযুক্ত মোজা আর স্যাঁতসেঁতে জার্সির স্তূপ সামলানো। তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে ব্যায়ামের পোশাক সতেজ ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখা সম্ভব।
কেন ব্যায়ামের পোশাকে দুর্গন্ধ হয়?
অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বস্ত্র ও পোশাকবিষয়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. ক্যারোলিনা কুইন্টেরো রড্রিগেজ বলেন, বেশিরভাগ ব্যায়ামের পোশাক কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি হওয়ায় এগুলোতে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
তিনি জানান, ঘামে ভেজা অবস্থায় এসব কাপড়ে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করলে জীবাণু দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। এর ফলেই তৈরি হয় অপ্রীতিকর গন্ধ।
তবে মেরিনো উলের মতো প্রাকৃতিক তন্তু তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প হতে পারে। কারণ এতে ঘাম শোষণ করার পাশাপাশি জীবাণুর বৃদ্ধি কমানোর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
রড্রিগেজ জানান, বর্তমানে এমন কিছু নতুন ধরনের কৃত্রিম তন্তুও তৈরি হয়েছে, যেগুলো বিশেষভাবে জীবাণুর বৃদ্ধি কমানোর জন্য তৈরি করা হয়।
তবে শুধু পোশাকের উপাদানই নয়, দুর্গন্ধ তৈরির পেছনে আরও অনেক বিষয় কাজ করে। কী ধরনের ব্যায়াম করা হচ্ছে, ব্যায়ামের মাত্রা কতটা, শরীর থেকে কত বেশি ঘাম বের হচ্ছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘামের পরিমাণ ভিন্ন হয়। নারী ও পুরুষের ঘামের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। পাশাপাশি তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং পোশাকের গঠনও দুর্গন্ধ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এসব কারণে শরীর ও পোশাকের মাঝখানে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে ঘাম ও জীবাণুর প্রভাব বেড়ে যায়।
পোশাক ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি
রড্রিগেজের মতে, দুর্গন্ধ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো ঘামে ভেজা পোশাক দীর্ঘ সময় ফেলে না রাখা।
তিনি বলেন, সম্ভব হলে ব্যায়ামের পোশাক দ্রুত ধুয়ে ফেলা উচিত। তা সম্ভব না হলে পোশাক ভালোভাবে মেলে বা ঝুলিয়ে রাখতে হবে, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং কাপড় শুকিয়ে যায়।
ভোক্তা পণ্য পর্যালোচনাকারী প্রতিষ্ঠান চয়েস-এর পর্যালোচনা ও পরীক্ষাবিষয়ক পরিচালক ম্যাথিউ স্টিন বলেন, ব্যায়ামের পোশাক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মই সবচেয়ে কার্যকর।
তার মতে, সব ব্যায়ামের পোশাক ভালো মানের পরিষ্কারক দিয়ে হালকা বা কৃত্রিম কাপড়ের উপযোগী ধোয়ার পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা উচিত।
ব্যায়ামের পোশাকের স্থায়িত্ব ধরে রাখতে ঠান্ডা পানিতে ধোয়া ভালো। কারণ এসব পোশাক নিয়মিত ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত গরম পানির কারণে কাপড়ের তন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্টিন বলেন, সব পরিষ্কারকেই এমন উপাদান থাকে, যা ময়লা ও জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। তাই সব সময় গরম পানি ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
রড্রিগেজ আরও পরামর্শ দেন, পোশাক উল্টো করে ধুতে। এতে শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।
তিনি আরও বলেন, কাপড় নরম করার উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এটি কাপড়ের সূক্ষ্ম ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে এবং ঘাম শোষণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
দুজন বিশেষজ্ঞই মনে করেন, ব্যায়ামের পোশাক ধোয়ার আগে দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।
বেশি পরিষ্কারক ব্যবহার কি ভালো?
অনেকে মনে করেন, বেশি পরিষ্কারক ব্যবহার করলে পোশাক আরও ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সঠিক ধারণা নয়।
ম্যাথিউ স্টিন বলেন, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিষ্কারক ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পরিষ্কার হয় না। বরং কাপড়ে পরিষ্কারকের অবশিষ্টাংশ জমে যেতে পারে, দাগ পড়তে পারে এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা বাড়তে পারে।
তার মতে, অনেক সময় বোতলে লেখা পরিমাণের চেয়েও কম পরিষ্কারক যথেষ্ট হতে পারে। তবে পোশাকের ধরন ও ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন