রাঙামাটিতে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। গত দুই-তিন দিন ধরে রাঙামাটিতে এলপি গ্যাস নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা। ঢাকায় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই রাঙামাটিতে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
গ্যাস মজুদ থাকার পরও ডিলাররা খুচরা বিক্রেতাদের গ্যাস দিচ্ছেন না। বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে এই পন্থা বেছে নিয়েছেন ডিলারশিপ ব্যবসায়ীরা। তারা একটি সিন্ডিকেট চক্র তৈরি করে গ্যাস নেই বলে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
অপরদিকে রাঙামাটি শহরের মধ্যে একমাত্র সরকারি গ্যাস ডিলার ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ গ্যাস গুদামজাত করে রেখে গ্যাস নেই বলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। একইভাবে গ্যাস ডিলার ‘জসিম গ্যাস’ গুদামজাত করে রেখে গ্যাস নেই বলে বিক্রি বন্ধ রেখেছে। এতে চরম বিপদে পড়েছেন গ্রাহকেরা।
গ্যাস গ্রাহকেরা অভিযোগ করে বলেন, রাঙামাটিতে যারা গ্যাসের ডিলারশিপ নিয়েছেন, তারা বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করার জন্য গ্যাস নেই বলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
শহরের তবলছড়ি বাজারের মা এন্টারপ্রাইজের মালিক বিকাশ দে ও গ্যাস ডিলার জসিম গ্যাস মজুদ রেখে গ্যাস নেই বলে খুচরা ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।
তবে দুই-একজন খুচরা গ্যাস ব্যবসায়ী বলেন, গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় মালিকরা গ্যাস দিতে পারছেন না।
এদিকে বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, ইউনিগ্যাস, আই গ্যাস ও যমুনা গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় স্থানীয়ভাবে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে এবং বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
গ্রাহকেরা বলেন, ঢাকা থেকে শুরু করে রাঙামাটি শহর পর্যন্ত গ্যাস সিন্ডিকেট বিরাজমান, যার কারণে গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং সংকট দেখা দিয়েছে। ঢাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গ্যাস ডিলারশিপগুলো একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে, যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড ঢাকা কর্তৃক একটি নোটিশ জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখার জন্য। এর ধারাবাহিকতায় রাঙামাটিতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব দেখা দিয়েছে।
রাঙামাটির গ্যাস ডিলার ও ব্যবসায়ীরা বলেন, যেহেতু এটি একটি জাতীয় সমস্যা, তাই জাতীয়ভাবে সমাধান করা হলে গ্রাহকেরা এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতেন। খুচরা গ্যাস বিক্রেতারা গ্যাস সংকটের কারণে বিক্রি করতে পারছেন না। এতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাঙামাটি শহরে গ্যাসের অভাবে অনেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জন গ্যাস ব্যবসায়ী বলেন, ডিলার জসিম আমাকে পাঁচটি গ্যাস দিয়েছেন। অপরজনও বলেন, তাকেও জসিম সকালে পাঁচটি গ্যাস দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো, গ্যাস না থাকলে গ্যাস দিলেন কীভাবে?
এ ব্যাপারে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক বলেন, এই সমস্যা দেশব্যাপী। তবে সকাল থেকে রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে মাঠে কাজ করছেন।
রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে শহরের গ্যাস ডিলারশিপ জসিম, মা এন্টারপ্রাইজ ও হেলাল উদ্দিনের গোডাউনে গিয়ে খালি গ্যাসের বোতল পাওয়া গেছে।
তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গ্রাহক বা খুচরা ব্যবসায়ীদের গ্যাস দিতে পারছেন না। তবে কেউ গ্যাস মজুদ রেখে ‘গ্যাস নেই’ বললে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।


