রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি তেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সবজিসহ কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ নিয়েও সংকটে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কৃষকদের উৎপাদিত সবজির পাশাপাশি আনারস, তরমুজ ও কলা পরিবহনেও চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক নৌপথ এবং সড়কপথে পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়ায় পাহাড়ের উৎপাদিত শাকসবজি শহরে আনা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সংকটে ইতোমধ্যে বহু ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে পর্যাপ্ত কাঁচা সবজি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এমনকি বেশি দাম দিয়েও পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকটের কারণে কাপ্তাই হ্রদপথে পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্গম এলাকা থেকে সবজি আনার ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কপথেও পিকআপ ও ট্রাক চলাচল সীমিত হয়ে গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার কৃষকেরা উৎপাদিত সবজি সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় সেগুলো পচে নষ্ট হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় শহরের বাজারগুলোতে চড়া দামে সবজি বিক্রি হলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ মিলছে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছে। কাগজপত্র যাচাই করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সবজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অসংখ্য মানুষ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বোরো আবাদও ঝুঁকিতে পড়ছে।
কৃষকেরা জানান, সবজি পরিবহনের পাশাপাশি তেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় জ্বালানি মিলছে না।
রাঙামাটি সদরের বন্দুকভাঙা এলাকার কৃষক সঞ্জয় চাকমা বলেন, ‘জমিতে সেচ দিতে ডিজেল দরকার, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না। পানির অভাবে ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এখন থোর আসতে শুরু করেছে, পানি না দিতে পারলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বরকল উপজেলা থেকে শহরে সবজি নিয়ে আসা কৃষক সোহেল চাকমা বলেন, অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া এবং নৌ চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় খেতের উৎপাদিত সবজি বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেতেই সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটে সেচ কার্যক্রমে কিছু সমস্যা হচ্ছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সঠিক কৃষকেরা যেন ডিজেল পান, সে বিষয়ে তারা কাজ করছেন।
এদিকে জ্বালানি সংকটে কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক ইঞ্জিনচালিত নৌ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


