জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনি এলাকায় প্রথম সফরে আসছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার সফর ঘিরে হারাগাছে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আখতার হোসেন উল্লেখ করেছেন, তার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। তিনি লিখেছেন, ‘আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে, তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। আমরা হারাগাছের নিপীড়িত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি এ কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে যা লিখেছেন
আখতার হোসেন তার স্ট্যাটাসে দাবি করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর তার বিরুদ্ধে প্রথম হরতাল ডাকা হয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর-৪ আসনের হারাগাছে তার বিরুদ্ধে হরতাল ডেকেছে এমদাদুল হক ভরসার পৌর বিএনপি। তার অভিযোগ, বিএনপির নাম ব্যবহার করে ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনের দিন হারাগাছ পৌরসভায় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০টি কেন্দ্রের কোথাও এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের ব্যাজ ধারণ করে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। ধানের শীষের সমর্থকদের সংখ্যাই বেশি ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে তার কর্মীদের মারধর, ভোটার স্লিপ বিতরণের টেবিল ভাঙচুর এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলেও উল্লেখ করেন।
আখতার হোসেন বলেন, কাস্টিং ভোটের হিসাব নিতে গেলে হারাগাছ মডেল কলেজ কেন্দ্রে তাকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে তিনি কেন্দ্র ত্যাগ করতে সক্ষম হন।
তিনি দাবি করেন, ভরসার গাড়ির গ্লাস ভাঙার ঘটনায় এনসিপিকে দায়ী করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, রংপুর-৪ আসনে ৫ লাখ ৯ হাজার ভোটারের মধ্যে হারাগাছ পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪৫১। সেখানে ভরসা ২৭ হাজার এবং তিনি ৫ হাজার ভোট পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে তার দাবি, অতিরিক্ত ভোট দেখানোর চেষ্টা ঠেকাতে সক্ষম হওয়ায় তিনি বিজয়ী হয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর তার নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট করা হয়েছে। অনেক কর্মী এখনো এলাকায় ফিরতে পারেননি বলেও দাবি করেন।
হারাগাছ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং বিশেষ বরাদ্দের অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা জানতে তিনি সেখানে যাচ্ছেন। গত দেড় বছরে হারাগাছ পৌরসভার জন্য তিন দফায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ আনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে, তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে।’
নির্বাচনের ফলাফল
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভরসা এবং ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। তার সমর্থকরা হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিও পালন করেন।
ভরসার প্রতিক্রিয়া
এদিকে আখতার হোসেনের স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর-৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি বর্তমানে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছি। হারাগাছে কোনো কর্মসূচি বা কার্যক্রম নেই। আমার নাম ব্যবহার করে যে বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রংপুর-৪-এর মানুষ জানে এবং দেখেছে এই নির্বাচনের বাস্তবতা।’
‘আমাদের ওপর যে অন্যায় হয়েছে, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মিথ্যা প্রচার দিয়ে সত্য চাপা দেওয়া যাবে না। আমি জনগণের ভোটের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলাম, আছি, থাকব ইনশাআল্লাহ।’
-20260222190347.webp)

