আমদানি কার্যক্রম শুরুর পর গত দুই দিনে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ৩৬ ট্রাকে মোট ১ হাজার ৪৪৭ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বন্দরে চাল আমদানি শুরু হওয়ায় শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর এই বন্দর দিয়ে চাল আমদানি করা হয়েছিল।
ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুসা জানান, দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নির্দেশে গত ১৮ জানুয়ারি দেশের ২৩২ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর আমদানিকারকরা এলসি খুলে আমদানির প্রস্তুতি নেন। এলসির কপি হাতে পাওয়ার পর গত বুধবার দুপুর থেকে ভোমরা বন্দরে চাল আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিন ৫ ট্রাকে ৩৬৭ টন চাল আসে। পরের দিন আরও ৩১ ট্রাকে চাল আমদানি করা হয়।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, মেসার্স ইসমাইল হোসেন সরদার অ্যালুমিনিয়াম স্টোর, হানেফ এন্টারপ্রাইজ, ইসলামপুর রাইচ মিল, রেজাউল অ্যান্ড সন্স ও জাহাঙ্গীর হোসেন। দুই দিনে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ৩৬ ট্রাকে ১ হাজার ৪৪৭ টন চাল ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করে।
এদিকে হঠাৎ করে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাতক্ষীরার বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা।
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল ক্রয়ের সময়সীমা এগিয়ে এনে ১৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করায় তালিকাভুক্ত মিলাররা সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে হঠাৎ করে খোলাবাজারে চালের সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে দামে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমদানি বাড়লে চালের দাম আবার কমে আসবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে নিয়মিত চাল আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং খুব শিগগিরই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।


