একই জমিতে একসঙ্গে কালোজিরা ও মধু চাষে সাড়া ফেলেছেন সাতক্ষীরার কৃষকেরা। কালো দানার ভেতর লুকানো ঔষধি গুণে ভরা কালোজিরা চাষ দিন দিন বেড়ে চলেছে এ জেলায়। রবিশস্য মৌসুমে শস্যটির খেত যেন সাদা ফুলের গালিচা বিছানো মাঠে রূপ নিয়েছে।
পাশাপাশি কালোজিরা চাষের সঙ্গে মৌমাছি চাষ করে কৃষকরা মূল্যবান ঔষধি মধু উৎপাদন করে বাড়তি আয়ও করছেন। একই সঙ্গে কালোজিরার খেতগুলোতে বসানো মৌমাছির বাক্স থেকে কালোজিরার সাদা ফুলের মধ্য থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে মূল্যবান মধু। মৌমাছির পরাগায়নের ফলে কালোজিরার ফলন যেমন বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি উৎপন্ন হচ্ছে খাঁটি মধু। জেলার চাষিরা কালোজিরা ও একই সঙ্গে মধু চাষ করে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে।
কালোজিরা চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫ মণ কালোজিরা উৎপাদন হয়। প্রতি মণ কালোজিরার বাজার মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি জমি থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকার কালোজিরা উৎপন্ন হচ্ছে। তবে সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রতিবিঘায় উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তারপরও মাত্র চার মাসে এক বিঘা জমি থেকে কৃষক উপার্জন করছেন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এ কারণে সরিষার চাষের পরিবর্তে কালোজিরা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
অপরদিকে, মৌমাছির মধু সংগ্রহে পরাগায়ন হচ্ছে কালোজিরার ফুল। তাই সাতক্ষীরা জেলার কালোজিরার খেতগুলোতে সারি সারি মৌমাছির বাক্স রাখা হয়েছে। মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন মৌচাষিরা। মৌমাছির গুনগুনিয়ে মধু সংগ্রহকালে বাতাসের দোলায় কৃষকের মনও আনন্দে ভরে যাচ্ছে। মধু চাষিরা জানান, সুন্দরবনের খলিসা মধুর পরই কালোজিরার মধু জনপ্রিয়।
মৌচাষি হাতেম আলী বলেন, এখন আর শরীয়তপুর বা ফরিদপুর যেতে হয় না, ঘরে বসেই কালোজিরার মধু উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
সাতক্ষীরা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ১০০ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ করে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ করছেন।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, কালোজিরা একটি মসলাজাতীয় ঔষধি গুণসম্পন্ন ফসল। সরিষার মতো ফলন হলেও দাম তিনগুণ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। রোপা আমনের পরও কালোজিরা চাষ করে পাট চাষ করা যায়। তাই কৃষকরা এই চাষে ঝুঁকছেন। এ ছাড়া মধুর বাড়তি আয় ও পরাগায়নের কারণে ফলনও বাড়ছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা এখন লাভজনক কালোজিরার চাষ ও মধু উৎপাদনে আগ্রহী। মূলত অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ার কারণে চাষিরা কালোজিরা চাষে এগিয়ে এসেছেন।
কালোজিরা চাষিরা জানান, মাত্র চার মাসের ফসল কালোজিরার চাষ। এ চাষ আরও বৃদ্ধি করতে হলে সরকারিভাবে স্যার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম কমানো দরকার। এ ছাড়া সরকার যদি বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন বলে আশাবাদী।
-20260330101307.webp)

