সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় জমি বিক্রির চুক্তিভঙ্গের জেরে এক ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকালে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তি ভবেন্দ্র দাস (৫৯) অভিযোগ করেন, খেশরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ গাজী তাকে মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, তালার শ্রীমন্তকাটি গ্রামের বাসিন্দা ভবেন্দ্র দাস তিন মাস আগে বালিয়া গ্রামের আবদুল আহাদের সঙ্গে ৯.৫ শতাংশ জমি ৬৮ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য চুক্তি করেন। তবে আবদুল আহাদ কেবল ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। নির্ধারিত সময়ে পুরো টাকা না পাওয়ায় ভবেন্দ্র দাস ৭ আগস্ট একই জমি দ্বিগুণ মূল্যে হারুন মোল্লা নামে অপর এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে আবদুল আহাদ ভবেন্দ্র দাসকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভবেন্দ্র দাসকে পিছমোড়া করে গোয়ালঘরের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা তাকে সেখানেই আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে ভবেন্দ্র দাসের ভাতিজা স্বপন দাস ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি ৮ হাজার টাকা আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। টাকা দেওয়ার পর ভবেন্দ্র দাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মারধরের কারণে তার ডান কানে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তিনি এখন সঠিকভাবে শুনতে পারছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল আহাদ গাজী বলেন, ‘ভবেন্দ্র দাস আমার সঙ্গে চুক্তি করেও জমি দলিল করে দেননি। পরে জানতে পারি, তিনি গোপনে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। তখন আমি তাকে ডেকে আনি। এলাকায় জানাজানি হলে মানুষই তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। এ ঘটনায় আমি নিজেও ভুল করেছি। আমারও অন্যায় হয়েছে।’
তালা থানার খেশরা পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনজুরুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত আহাদ আলী মোড়লকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। খেশরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুল গফ্ফার গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অন্যায় করলে যে-ই হোক, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। বিএনপি কোনো অন্যায়কারীকে দলে প্রশ্রয় দেয় না।’