ইতালিতে ছিনতাইকারীদের গাড়িচাপায় নাঈম ইসলাম শান্ত (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত নাঈমের পরিবারের দাবি, ছিনতাইকারীরা পরিকল্পিতভাবে মালামাল লুটের সময় তাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করেছে।
ঘটনাটি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে ইতালির নেপোলি শহরে ঘটে। খবরটি বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) তার পরিবারে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত নাঈম ইসলাম শান্ত শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার এনামুল হক মাদবর ও তাজিয়া বেগম দম্পতির ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিন বছর আগে দেশ ছাড়েন নাঈম। প্রথমে দুই বছর লিবিয়ায় অবস্থানের পর এক বছর আগে ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছান তিনি। সেখানে নেপোলি শহরের একটি ক্যাম্পে থাকতেন এবং একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন।
পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন ধীরে ধীরে পূরণ হতে থাকা অবস্থায় এ বিপর্যয় নেমে আসে। মঙ্গলবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তিনি নিহত হন। মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে, সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা বাবা-মা ও স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতের ভাই বাপ্পি মাদবর বলেন, আমার ভাই কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ওই এলাকার কিছু বখাটে মাঝে মাঝে তাকে উত্ত্যক্ত করত। গতকাল রাতে তারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।
নিহতের ছোটবেলার বন্ধু আল-ইমরান অভিযোগ করেছেন, ইতালিতে কিছু স্থানীয় সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরেই আমার ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে হত্যা করেছে। ভাইকে হারানোর কষ্ট আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।
নিহতের বাবা এনামুল হক মাদবর বলেন, আমি শুধু একবার আমার ছেলের মুখটা দেখতে চাই। যেভাবেই হোক, সরকার যেন আমার ছেলের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেয়।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


