শরীয়তপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে পালং মডেল থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এর আগে শনিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার গয়ঘর খলিফা কান্দি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর খলিফা কান্দি এলাকার আলাউদ্দিন বেপারীর বাড়িতে ১০ থেকে ১২ জন লোক দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে হামলা করে। এ সময় বাড়ির আঙ্গিনায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে একটি টিনের ঘর ও ‘আরিশ এগ্রো’ নামে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড পিটিয়ে কুপিয়ে ভাঙচুর করে এবং চারটি ফলগাছ কেটে ফেলে।
এ ঘটনায় রোববার রাতে গয়ঘর খলিফা কান্দি এলাকার বিল্লাল হাওলাদার (৪২), হারুন অর-রশিদ হাওলাদার (৫৫), বিলদেওনিয়া এলাকার আতাহার মাদবর (৩৮), আলমাছ মাদবর (৪০) ও মোতাচ্ছের মাদবর (৪২) নাম উল্লেখ করে ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন বেপারী।
আলাউদ্দিনের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম এনি বলেন, ‘শনিবার রাত আড়াইটার দিকে ওয়াশরুমে যাব বলে বাহিরে বের হই। এ সময় বিল্লাল, হারুন অর-রশিদ, আতাহার, আলমাছ ও মোতাচ্ছেরসহ কয়েকজনকে আমাদের বাড়ির উঠানে স্পষ্ট দেখতে পাই। তারা আমাদের বাড়িতে ঢুকে ককটেল মারে ও বাড়িঘর পিটিয়ে-কুপিয়ে ভাঙচুর করে। তাদের হাতে রামদা, ছ্যানদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠি, ককটেল (হাতবোমা) ছিল। আমি চিৎকার করলে আমার বাবাসহ বাড়ির সবাই বাহিরে বের হয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন দিলে বাড়িতে পুলিশ আসে।’
গয়ঘর খলিফা কান্দি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, রাতে বিকট শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে। পরে আলাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখি পুলিশ এসেছে।
আলাউদ্দিন বেপারী বলেন, ‘আমি আমার জমিতে পেঁপে বাগান ও একটি ফার্ম করব তাই জমিতে মাটি দিয়ে উঁচু করছিলাম। তা দেখে আমার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করে বিল্লাল হাওলাদার, আতাহার মাতবর, আলমাছ মাতবর, হারুন অর রশিদ হাওলাদার, মোতাচ্ছের মাতবররা। এগুলো আমলে না নেওয়ায় আমার এক শ্রমিককে মারধর করে তারা।’
‘তারপর শনিবার রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। পরে দেখি বাড়ি ও আমার প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়েছে। আমার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তারা। আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তারা। তাই আমি থানায় মামলা করেছি। হামলাকারীদের বিচার দাবি করছি।’
এদিকে, বিল্লাল হাওলাদার ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি।
তবে বিল্লালের বোন নাছিমা বেগম বলেন, ‘জমি নিয়ে আলাউদ্দিনের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা ছিল। তাকে আমরা বলছিলাম জমি না মেপে, এস্কেভেটর মেশিন লাগাইও না। এ ঘটনার পর রাতেই শুনি তাদের বাড়িতে দুর্ঘটনা। তারা নিজেরাই ঘটনাটি ঘটিয়ে, এখন আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘আলাউদ্দিনের বাড়ির আঙ্গিনা থেকে ককটেল সদৃশ উদ্ধার করেছি। তাদের মধ্যে জমি নিয়েও ঝামেলা রয়েছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’


