ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অ্যাম্বুলেন্স চক্রের হাতে রোগীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

শরিয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শরীয়তপুরে রোগী পরিবহন এখন জীবনরক্ষার নয়, বরং জীবননাশের ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একটি প্রভাবশালী অ্যাম্বুলেন্স চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

গত বছরের আগস্টে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনায় এক নবজাতকের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ মাস না যেতেই একই কায়দায় আবারও এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামের এক রোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই দফায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও জামতলা এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সহযোগিতায় মুক্ত হলেও ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান জমশেদ আলী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই একই চক্র এবারও সক্রিয়। জমশেদ আলীর পরিবারের অভিযোগ, ওই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সুমন খানের নেতৃত্বে এবারও অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হয়েছে। সুমনের সঙ্গে থাকা ৮-১০ জনও পেশায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক।

অভিযোগ রয়েছে, জেলায় বর্তমানে ২৭টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করেন নবজাতক মৃত্যুর মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আবদুল হাই মোল্লা, আবু তাহের, চালক সুমন খান ও আবু তাহেরের ছেলে চালক রহিম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার ভাড়া চার হাজার টাকা। আর চক্রের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া দিতে হয় সাত-আট হাজার টাকা। অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে গেলে কিংবা চক্রের অনুমতি ছাড়া রোগী তুললে সেটি আটকে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ ঘটনায় নিহত জমশেদ আলী ঢালী শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে সদরের পালং মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের নাতি জুবায়ের হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন সদর উপজেলার কাচারিকান্দি এলাকার চালক সুমন খান (৩২), সজীব (২৮), হান্নান (২৫) ও নড়িয়া উপজেলার পারভেজ (২৬)। মামলার পরপরই প্রধান আসামি সুমন খানকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনায় জমশেদ আলী নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগে বুধবার রাতে মামলা হয়েছে। আমরা প্রধান আসামি সুমন খানকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’