শেরপুরের নকলা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রশিদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে মরহুমের বাসভবনের পাশে চৌকস পুলিশের একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মরহুমের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে রাত ৮টায় কায়দা বাজারদী কবরস্থান মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কায়দা বাজারদী কবরস্থানেই তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নকলা প্রেস ক্লাবের দায়িত্বশীল ও স্থানীয় সংবাদকর্মী, রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আলাদাভাবে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
চিরবিদায়ী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলার ৯ নম্বর চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামের মৃত সিরাজ আলীর ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নকলা পৌরসভার বাজারদী এলাকায় নিজ বাড়িতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
কর্মজীবনে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একজন নিষ্ঠাবান কর্মচারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অবসরকালীন তিনি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন এবং অযথা বাইরে সময় কাটানোর নজির স্থাপন করেননি।
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রশিদের লাল মুক্তিবার্তা তালিকা নম্বর ০১১৪০৩০২০৩, গেজেট তালিকা নম্বর ১০১১ এবং কল্যাণ ট্রাস্ট তালিকা নম্বর ১৫৬৭৪। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর বয়স ছিল ৭১ বছর ১১ মাস ১৩ দিন। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মরহুম স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন