শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার বা এসি-ল্যান্ড কার্যালয়ের গাড়িচালক মো. আল-আমিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভুক্তভোগী রাশেদ খান মিলন লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসি-ল্যান্ড অনিন্দিতা রানী ভৌমিকের কাছে গেলে তাকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে অভিযোগ প্রত্যাহারের মুচলেকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি গাড়ির চালক হয়েও আল-আমিন জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা ও অবৈধ অর্থ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, নামজারি (মিউটেশন), মিস কেস, জমির খতিয়ান সংশোধন এবং ঝিনাইগাতী বাজারের দোকানঘর মেরামতের কাজসহ বিভিন্ন সেবার জন্য অফিসে আসা সাধারণ মানুষকে কৌশলে ফাঁদে ফেলেন এই চালক।
দ্রুত কাজ করে দেওয়ার নামে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটান এবং টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখার ভয় দেখান।
উপজেলার এক সেবাগ্রহীতা বলেন, এসি-ল্যান্ড স্যারের গাড়িচালক হওয়ায় সবাই তাকে গুরুত্ব দেয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি অফিসের ভেতরে দালাল চক্র তৈরি করেছেন। সাধারণ মানুষ তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী রাশেদ খান মিলন বলেন, খারিজ করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে এসি-ল্যান্ডের ড্রাইভার ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। পরে দীর্ঘদিন পার হলেও খারিজ করে দেয়নি। টাকা ফেরত চাইলে আমাকে মামলার ভয় দেখানো হয়।
পরে বিষয়টি লিখিতভাবে এসি-ল্যান্ডের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে উল্টো আমাকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরে অফিসের একজন ম্যানেজার মুচলেকা দিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করালে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমি শেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
আশকরি আলী নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, বাজারের সরকারি ঘর মেরামতের জন্য ড্রাইভার আল-আমিন আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। পরে দীর্ঘদিন টালবাহানা করে। পরে চাপ দিলে মেম্বারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়, বাকি টাকা এখনো ফেরত দেয়নি।
সাহেরা বেগম নামের এক নারী অভিযোগ করেন, সাড়ে ৪ শতাংশ জমির খারিজ করার জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় আমার কাজ হয়নি।
জাকিয়া পারভীন নামের আরেকজন জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিতর্কিত ওই চালক অতীতে এসি-ল্যান্ড অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ঝিনাইগাতী বাজারের বিভিন্ন দোকানে অনিয়ম ও কথিত চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার বিরোধী আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ সময় আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এসি-ল্যান্ড অফিসের সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর তিনি পুনরায় অফিসে যোগ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিক বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর এমন কর্মকাণ্ডে পুরো ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন