শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের গ্যারেজে সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকদের প্রণোদনার বীজ পচে নষ্ট অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। সেখানে প্রণোদনার একটি টিলার (টিলার) নতুন মূল্যবান মেশিনও অযত্নে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিচতলার সিঁড়ি-সংলগ্ন গ্যারেজে দুজন কর্মচারীকে দেখা যায় দুটি বস্তায় প্রায় ২০০ প্যাকেট বিএডিসির এসএল-৮এইচ সুপার হাইব্রিড জাতের বীজ ও নষ্ট, পচা ধানের বীজ ফেলে দেওয়ার জন্য পরিষ্কার করছিলেন।
এমন সময় অফিসে অন্য একটি প্রতিবেদনের কাজে বক্তব্য নিতে যাওয়া ‘রূপালী বাংলাদেশ’এর প্রতিবেদকের বিষয়টি সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০০-২৫০ প্যাকেট মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এসএল-৮এইচ সুপার হাইব্রিড জাতের ধানবীজ ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিষ্কার করা হচ্ছিল। বীজের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ সিল দেওয়া ছিল ২৫/২৬ খ্রি. এবং প্যাকেটের সঙ্গে লাগানো ট্যাগে উৎপাদনের তারিখ ছিল ২৪/২৫ খ্রি।
এদিকে প্রণোদনার বীজ ও মেশিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কেন বা বিতরণ না করার কারণ জানতে চাইলে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হন।
তিনি রাগান্বিত অবস্থায় বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া নষ্ট বীজ ও মেশিনের ছবি তোলা অপরাধ। কাজটি ভালো করেননি। এখানে কৃষকের জন্য যে বরাদ্দ আসবে, আমার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা যে তালিকা করবে, সেগুলো কৃষকেরা যদি না নেয়, সেটা আমার কৃষকের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নয়।
কৃষককে বারবার জানানো হয়েছে; যদি কৃষক না আসে, সেটা গুদামেই নষ্ট হবে, গুদামেই পচবে। তবে কোন কৃষকদের নামে তালিকা করা হয়েছে বা দামি মেশিন কেন বিতরণ করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, কৃষি প্রণোদনা বিতরণ না করে নষ্ট হওয়া বা বিতরণ না করার বিষয়ে তার জানা নেই।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন