সিরাজগঞ্জের কাজীপুর যমুনা নদীর চরে গোপনে ঘোড়া জবাই করে মাংস ঢাকায় পাচারের চেষ্টাকালে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে মোবাইল কোর্টে দোষ স্বীকার করায় তাদের প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে যমুনার চরে কয়েকটি ঘোড়া জবাই করে মাংস ঢাকাতে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করা হবে। তথ্য যাচাই করে কাজীপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি টিম নদীর তীরবর্তী এলাকায় রাতভর নজরদারি চালায়।
একপর্যায়ে ঢাকাগামী একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ১১টি বস্তায় ভরা প্রায় ৪০০ কেজি হাড়বিহীন ঘোড়ার মাংসসহ দুজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন—মো. কাওছার আলী পলাশ (৩৫) ও মো. শরিফুল ইসলাম (৪৫)। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, যমুনার চরে আটটি ঘোড়া জবাই করে ৪০০ কেজি বোনলেস মাংস সংগ্রহ করেন এবং তা গাজীপুরে বিক্রির জন্য কাজিপুর হয়ে ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪(২) ধারা ভঙ্গের দায়ে ২৪(১) ধারায় উভয়কে দোষী সাব্যস্ত করে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাজীপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবু সাইদ, সেকেন্ড অফিসার আলী আকবর এবং প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল আহাদ। পরে জব্দকৃত মাংস গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও একই পথে ঘোড়ার মাংস ঢাকায় নেওয়ার সময় দুজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।


