সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার কৃষকরা ফসল রক্ষার তাড়নায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টঙ্গী ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে টগার হাওরের জলাবদ্ধতা কমাতে জয়শ্রী ইউনিয়নের টঙ্গী বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টগার হাওরের পানি নিষ্কাশনের দাবিতে কৃষকরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন।
তবে প্রশাসনিকভাবে বাঁধ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। এতে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে এবং ফসলে পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দেয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইকিং করে কৃষকদের বাঁধ কাটার আহ্বান জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা একত্রিত হয়ে টঙ্গীর বাঁধ কাটা শুরু করেন। বাঁধ কেটে দেওয়ায় টগার হাওরের পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধর্মপাশা উপজেলায় ১৮ হাজার ২৯০ হেক্টর এবং মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
ইতোমধ্যে দুই উপজেলায় অন্তত ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। টগার হাওরে প্রায় ২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হলেও এর মধ্যে ১৮০ হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাইল্যানি হাওরের ৫৯ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি সবুক্তগীন জানান, প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই কৃষকরা বাঁধ কেটে দেন। কৃষকদের দাবি, সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনা ও বিলম্বই তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া বাঁধ কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসন বলেন, বাঁধটি কাটা ঠিক হয়নি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুমেশ্বরী ও বৌলাই নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই বাঁধ কেটে দেওয়ায় ভবিষ্যতে নদীর পানির চাপ বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।


