ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিলেটে পেট্রোল পাম্পে হামলার প্রতিবাদে অর্ধদিবস ধর্মঘট

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৩:০২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বিভাগে পেট্রোল পাম্পে হামলা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতীকী অর্ধদিবস ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ সময় সিলেট বিভাগের সব ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পে কর্মবিরতি পালন করা হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় শাখা।

সংগঠনের নেতারা জানান, সোমবার বিকেলে সিলেট নগরের চৌকিদেখী এলাকায় অবস্থিত উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে জ্বালানি নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের ম্যানেজারের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংগঠনের নেতারা বৈঠক করেন।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশদ আজিম আদনান বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি বিপণন নীতি সংশোধন এবং সিলেট বিভাগে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে স্বাভাবিক করার দাবিতেও এই প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে।

এদিকে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশদ আজিম ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমদ এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় চৌকিদেখীর উত্তরা পেট্রোলিয়ামে লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নেওয়ার অনুরোধ করায় কিছু উশৃঙ্খল তরুণ পাম্পের বিক্রয়কর্মী মিঠু গোয়ালাকে (২২) মারধর করে গুরুতর আহত করে।

তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। সোমবার শ্রীমঙ্গলের একটি রিফুয়েলিং স্টেশন এবং রোববার রাতে সিলেট শহরের আরেকটি পেট্রোল পাম্পেও কর্মচারীদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাম্পের কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।

নেতারা আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মালিক ও শ্রমিকরা দিন-রাত কাজ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে সিলেটে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে পাম্পকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

এই প্রেক্ষাপটে পেট্রোল পাম্প ও সেখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতীকী কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
১. পেট্রোল পাম্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩. বিপিসি আরোপিত অযৌক্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতি প্রত্যাহার।
৪. স্বাভাবিক, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা পুনর্বহাল।
৫. সিলেট অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।