ফাল্গুনের শুরু, গ্রাম বাংলায় আম মানেই এক আবেগ, এক অনির্বচনীয় ভালোবাসা। আর সেই আবেগে নতুন রং ছড়িয়েছে আম গাছের মুকুল। ফাল্গুনি হাওয়ার ছোঁয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি ম-ম ঘ্রাণ। ঋতুরাজ বসন্ত যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে, আসছে মধুমাস।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধার, পুকুরপাড়, জমির আইল কিংবা বসতঘরের পাশের টিনের চাল ছুঁয়ে থাকা ডাল যে দিকেই চোখ যায়, সেদিকেই হলদে-সবুজ মুকুলে ভরা আমগাছ। থোকা থোকা মুকুলের ভারে অনেক গাছের ডাল নুয়ে পড়েছে। প্রকৃতির এই অপরূপ সাজে চোখ ফেরানো দায়।
মুকুলের সৌরভে, সুরভিত হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ। ব্যস্ত মৌমাছিরা মধু আহরণে ছুটে বেড়াচ্ছে ডাল থেকে ডালে। বসন্তের সুবাতাস যেন আগাম সুখের বার্তা বয়ে আনছে, ডালে ডালে ঝুলবে রসাল আম, আর সেই আম কে ঘিরেই প্রাণ ফিরে পাবে গ্রাম বাংলার অর্থনীতি ও স্বপ্ন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে বড় আম বাগান না থাকলেও প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে এক বা একাধিক আমগাছ। কেউ শখ করে লাগিয়েছেন দেশি জাত, আবার অনেকেই বিদেশি ও উন্নত কলম জাতের আমগাছ রোপণ করেছেন। এসব গাছেও এবার ব্যাপক হারে মুকুল ধরেছে, যা দেখে খুশি সাধারণ আম চাষিরা।
ঘিওরকোল গ্রামের তালুকদার বাড়ির গৃহিণী লাকী জানান, আমাদের বসতবাড়িতে রয়েছে প্রায় ১২ প্রজাতির আমগাছ। তা ছাড়াও রয়েছে লিচু, কাঁঠাল, জবেদা, মালটা, কামরাঙ্গা, আমড়াসহ একাধিক ফলের গাছ। মৌসুমি সকল গাছে মুকুল ও ফুল এসেছে। গত বছরের তুলনায় এবার এক বেশি আমের মুকুল এসেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে দেশে।
তবে ভালো ফলনের আশায় কেউ কেউ মুকুল আসার আগেই ভিটামিন ও হরমোন প্রয়োগ করেছেন। আবার পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও মুকুল ঝরা রোধে নিয়মিত ওষুধ স্প্রে করছেন অনেকেই। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু গাছে এত বেশি মুকুল এসেছে যে, ডাল ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এমন দৃশ্য গ্রাম বাংলার মানুষের মনে জাগাচ্ছে জ্যৈষ্ঠের মধুমাসের প্রতীক্ষা। মন যেন এখন থেকেই পাকা আমের স্বাদ কল্পনা করে পাগলপারা।
আমের মুকুলে সেজেছে গোটা উপজেলা। প্রকৃতির এই নবরূপ শুধু সৌন্দর্য নয়, এটি গ্রাম বাংলার আশা, স্বপ্ন আর অর্থনীতিরও প্রতীক। এখন সবার চোখ খোলা আকাশের দিকে প্রকৃতি সহায় হলেই ডালে ডালে ঝুলবে সোনালি স্বপ্ন, পারিবারিক পুষ্টিচাহিদা মিটিয়ে পাবে বাড়তি টাকা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন