বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে স্ট্রবেরি। বাজার চাহিদা, ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় প্রতিনিয়ত কৃষকের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে স্ট্রবেরি চাষ। স্ট্রবেরি চাষ করে উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আব্দুল্লাহ নিজ চেষ্টায় বাড়ির পাশে ২০২২ সালে পরীক্ষামূলক প্রথমে ১০০টি চারা দিয়ে শুরু করেন স্ট্রবেরির বাগান। ভালো ফলন পাওয়ায় পরের বছর শুরু করেন স্ট্রেবেরির বাণিজ্যিক চাষ। বর্তমানে আব্দুল্লাহ ৭০ শতক জমিতে স্ট্রবেরির চাষ করেছেন। স্ট্রবেরি চাষ করে এ বছর ৫-৬ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, বাগানে দেখা যায় সারিবদ্ধ লাইনে স্ট্রবেরি গাছ। প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে টসটসে লাল পাকা স্ট্রবেরি। বিক্রির জন্য স্ট্রবেরি তুলছেন আব্দুল্লাহ। মা-বাবাসহ পরিবারের লোকজন স্ট্রবেরি বাজারজাতের জন্য প্যাকেজিংয়ের কাজ করেছেন। বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির বাগান করতে আগ্রহী হয়ে পড়ছেন অনেক কৃষক।
আব্দুল্লাহ বলেন, পরীক্ষামূলক কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে ৭০ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেছি। এই জমিতে ১০ হাজার গাছ রয়েছে। এতে চারা পরিচর্যাসহ সবমিলিয়ে খরচ ৩০ হাজার টাকা। প্রতি গাছ থেকে এক মৌসুমে ১৫-২০ বার ফল আহরণ করা যাবে। এক গাছে স্ট্রবেরি উৎপাদন হবে ৫০০-৬০০ গ্রাম। বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রতি কেজি স্ট্রবেরির পাইকারি দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। সে হিসেবে ৭০ শতাংশ জমিতে ৭-৮ লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
তিনি জানান, এ বছর স্ট্রবেরির চারা বিক্রি করেছেন ২ লাখ টাকা। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে স্ট্রবেরি চাষের কথা জানান আব্দুল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত স্ট্রবেরির চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। জানুয়ারির মধ্য ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ ও বিক্রি করা যায়।
ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, স্ট্রবেরি উচ্চ পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি বিদেশি ফল। আব্দুল্লাহ নামের একজন কৃষক ঘাটাইলে স্ট্রবেরি চাষ করে সফল হয়েছেন। স্ট্রবেরি চাষ করে তিনি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। ঘাটাইল উপজেলায় স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক চাষাবাদে কেউ আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ তাদের সার্বিক পরামর্শ প্রদান করবে।


