হাসপাতাল ও পুলিশের সমন্বয়হীনতা এবং টালবাহানার কারণে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক ধর্ষিতা নারীর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে গোপালপুর থানায় ধর্ষণের মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা মাহামিদা বেগম।
সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সুজনবাড়ী গ্রামের ভুক্তভোগী একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী। কয়েক বছর আগে দিনমজুর বাবা মারা গেছেন। পরিবারে তার এক ভাই ও এক বোনও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মা কৃষিকাজ করে সংসার চালান।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে বাড়ির পাশের বোরো খেতে কাজে গেলে একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্বার আলী (৫৩) তাকে ফুসলিয়ে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগীর চাচি আনোয়ারা বেগম জানান, ঘটনার পর গ্রাম্য মাতব্বররা থানায় বা হাসপাতালে যেতে বাধা দেন। ওই রাতেই অভিযুক্তের ছোট ভাই শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে ধর্ষক ও ভুক্তভোগীকে জনসমক্ষে বসিয়ে ঘটনাটি বর্ণনা দিতে বলা হয়। লজ্জা ও ভয়ভীতির কারণে ভুক্তভোগী কথা বলতে সংকোচ বোধ করলে মাতব্বররা তাকে ধমক দেন এবং একপর্যায়ে আপসের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরে অভিযুক্তকে জুতাপেটা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং থানায় মামলা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নজরে এলে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তারা ঘটনাস্থলে যান এবং ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পেয়ে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রেফার করেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার লোকমুখে ঘটনার কথা শুনলেও কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় এবং হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতি ছাড়া ধর্ষিতার ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায় না। তিন দিন পর মামলা নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার পুলিশ ব্যস্ত ছিল।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য অফিস সময়ের মধ্যে যাচাই করে জানানো যাবে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এফ এম মাহবুবুল আলম জানান, ভুক্তভোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া পরীক্ষার কার্যক্রম এগোনো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টা পার হলে ধর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার জানান, গোপালপুর থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

