ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অনেক জায়গায় সব দলের প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড শতভাগ নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, কিছু দল নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে। তবে তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের পর নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের কার্যক্রম আর কেউ বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তরুণরা তা হতে দেবে না।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডাকসু, রাকসু, চাকসুসহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের রায়ের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। বিগত সময়েও এ প্রভাব ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররা যেদিকে যাচ্ছে, পুরো জাতি সেদিকেই যাবে। যারা ছাত্রদের জন্য কাজ করেছে, তারাই আগামীতে জাতির জন্য কাজ করবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জরিপের প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ওই জরিপে জামায়াত ৩৩ শতাংশ, বিএনপি ৩৪ শতাংশ এবং এনসিপি ৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। যেহেতু দেশে দুই ধারায় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করছে, তাই জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। জরিপে জামায়াত এগিয়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, গণভোটের পক্ষে ছাত্রশিবির দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকদের সুরক্ষা, সাগর-রুনি হত্যার বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন জীবনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের পাঠাগার সম্পাদক সোহেল রানা, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আনিস আহমেদ, আমজানখোর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আইয়ুব আলী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিমের সন্তান সিবগাতুল্লাহ সিবগা। নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েকদিন আগে তিনি প্রথমবারের মতো এলাকায় আসেন।



