ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের শেয়ালডাঙ্গী গ্রামের ১৭২টি ভূমিহীন পরিবার দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদ আতঙ্কে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দীর্ঘদিন সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো বন্দোবস্ত না পাওয়া এই পরিবারগুলোর জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।
প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই খাস জমিতে বসবাস করলেও প্রভাবশালী একটি মহল নিয়মিত তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। কখনো মিথ্যা মামলা, আবার কখনো জোরপূর্বক উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে এলাকাছাড়া করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিডিএর সহযোগীতায় জগন্নাথপুর ভূমিহীন জনসংগঠনের উদ্যোগে সংগঠনটির মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ভূমিহীনরা।
ভূমিহীনরা অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও তাদের সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হচ্ছে না। বরং প্রভাবশালীদের চাপের মুখে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। খাসজমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করতে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, ‘এ গ্রামে প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করছি। সরকারের প্রায় ৮২ একর খাস জমি রয়েছে। আমরা যেখানে বসবাস করছি, শুধু খাসজমিটুকুর বন্দোবস্ত চাই। প্রতিদিন উচ্ছেদের ভয়ে পরিবার নিয়ে ঘুমাতে পারি না। আতঙ্কে দিনরাত পার করছি। প্রতিবাদ করতে গেলে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’
ভূমিহীন রমজান আলী বলেন, ‘খাস জমি বন্দোবস্ত না থাকায় এ গ্রামে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে শিশুসহ শিক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনা করতে অসুবিধা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়নি। আধুনিক যুগে এসেও অন্ধকারে বসবাস করতে হচ্ছে।’
ভূমিহীন রুকসা বেগম বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা বাস্তুহারা মানুষদের বসবাসের জন্য জমির জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। হাজার হাজার একর সরকারি খাস জমি থাকা সত্ত্বেও আমাদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি লোকজনের সদিচ্ছার অভাবে আমাদের বাড়ি-ঘর হারানোর ভয় থাকতে হচ্ছে।’
উপজেলা ভূমিহীন সংগঠনের সভাপতি অবিনাশ রায় জানান, দেশের একটি কোম্পানি এখানে খাস জমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে জুতা তৈরির কারখানা স্থাপন করতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের জন্য নানাভাবে পায়তারা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করতে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও খাসজমি বন্দোবস্ত পাচ্ছেন না। প্রভাবশালীরাই বন্দোবস্ত পাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছবীর হোসেন বলেন, ‘সরকারি খাস জমিতে বসবাস করা কোনো ভূমিহীনকে কেউ উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন