ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় কর্মরত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নূরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গুগলে তার নাম লিখে অনুসন্ধান করলে অর্ধশতাধিক সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার অভিযোগ ও শাস্তি সত্ত্বেও তিনি পদে বহাল থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ করছেন।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউপি সদস্য আক্কাশ আলীকে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে উপজেলার সকল ইউপি সদস্যদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য আক্কাশ আলী বলেন, ‘বরাদ্দকৃত একটি উন্নয়ন কাজ চলাকালে পিআইও আমার কাছে উৎকোচ দাবি করেছিলেন। আমি অস্বীকৃতি জানালে আমাকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেওয়া হয়।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পিআইওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রাণীশংকৈলে যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তার কিছু আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি শীতবস্ত্র বিতরণে অনিয়ম, অফিস কক্ষে ধূমপান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। ওই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ এবং ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ক্রয়কৃত সিসি ক্যামেরার ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়ার পর চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার বেলাল উদ্দীনকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো সাক্ষাতই করিনি, তবুও আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। উপজেলা চত্বরে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।’
অতীতেও অভিযোগ
সূত্র মতে, অতীত কর্মস্থলেও নূরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং লঘুদণ্ড হিসেবে বেতন কমানো হয়। ২০১৯ সালের জুন ক্লোজিংয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের বিলে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০১৫ সালের পর থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল-বারী জানান, পিআইওর দায়ের করা চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগ এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তদন্ত চলছে। তবে ইউপি সদস্যের অভিযোগ এখনো এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’
জেলা প্রশাসক ইরশাত ফারজানা জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তা চাকরিবিধি লঙ্ঘন করলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে বারবার অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। বিষয়টি এখন রাণীশংকৈল উপজেলায় জনমতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন