ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘মিথ্যা মামলা’য় স্বামী কারাগারে, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর কান্নায় ভারী সংবাদ সম্মেলন

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত নেতার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর কান্নায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাণীশংকৈল প্রেস ক্লাবে ছাত্র, যুব ও গণঅধিকার পরিষদ রাণীশংকৈল শাখার উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা পিআইও নুরুন্নবী সরকারের দ্রুত অপসারণ, দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে সরকারি বিধি বহির্ভূতভাবে অফিস পরিচালনা করছিলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতারা এত রাতে অফিস পরিচালনার কারণ জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকি দেন এবং তাদের কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে একটি ‘সাজানো’ চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়।

ওই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন এবং সাংবাদিক জিয়াউর রহমান। এ ছাড়া রাণীশংকৈল উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী ও সাংবাদিক রাকিব ফেরদৌসসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি জাহিদ অভিযোগ করেন, পিআইও নুরুন্নবী সরকার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। 

তিনি আরও জানান, উপজেলা ডাকবাংলোতে প্রায় এক মাস অবস্থান করেও ১৪ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২০ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তার বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। তার বিরুদ্ধে অফিসে বসে প্রকাশ্যে ধূমপান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রেপ্তারকৃত নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার এই কঠিন সময়ে আমার পাশে আমার স্বামীর থাকা সবচেয়ে জরুরি ছিল। অথচ একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাজানো মামলায় তিনি আজ কারাগারে। আমি তার মুক্তি এবং এই অন্যায়ের বিচার চাই।’

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আক্রোশে নিরপরাধ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা দ্রুত পিআইওকে রাণীশংকৈল থেকে অপসারণ এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা।