ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের সিংপাড়া গ্রামে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও বিক্ষোভে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালন্দর ইউনিয়নের সিংপাড়া গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আজহারুল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরই জেরে গত বুধবার রাতে ওই গৃহবধূকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নির্যাতনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গৃহবধূ নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল নিয়ে অভিযুক্ত আজহারুল ইসলামের স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির আসবাবপত্র, দরজা-জানালা, কাঁচ ও বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করে। এতে কয়েকটি বসতঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয়দের দাবি— গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এলাকায় আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

