আলিরেজা রোশান, জন্ম : ১৯৭৭ ইরানের রাজধানী তেহরানে। কবিতা লেখেন, এছাড়াও করেছেন সাংবাদিকতা। বর্তমানে জার্মানির হামবুর্গে বসবাস করছেন। লেখকের কয়েকটি কবিতা ইংরেজি থেকে বাংলা করেছে জুবায়ের দুখু...
এক
তোমাকে বিদায় জানাতে গিয়ে
আমি হাত নেড়ে একাকীত্বকে বলেছিলাম অভিনন্দন।
দুই
প্রেম যখন
মোমশিখা হয়ে দাঁড়ায়
বাতাস তখন কী-ই বা করতে পারে?
তিন
আমার সামনে
কাপের ঠোঁটে চুমু দাও তুমি
আমার ঠোঁট তৃষ্ণায় কাঁপে,
মনে মনে কফির চেয়েও তিক্ত হয়ে উঠি।
চার
সে জানালা বন্ধ করল আমাকে দেখে
তখন তার মুখের বদলে
কাঁচে ভেসে উঠল— একখানা চাঁদ।
পাঁচ
তোমার উপস্থিতিই কবিতা
যা লিখি তোমার অনুপস্থিতিতে।
ছয়
যে পা আমাকে তোমার কাছে এনেছিল
সেই পা এখন দাঁড়িয়ে রুটির লাইনে—
সাত
কাউকে অনুভব করা একজন মা
দরজা খোলা রেখেই হারিয়ে যান বনে।
আট
আমি একটি দরজা খুলতে চাই
সমুদ্রের দিকে,
রাতের দিকে।
আমি একটি দরজা খুলতে চাই
তোমার দিকে—
যে তুমি
সমুদ্র ও রাত
দুটোই।
নয়
সে আদমকে বলেছিল,
‘তোমার শরৎ ক্ষণিক,
তুমি আমার কাছেই ফিরবে।’
কিন্তু আদম
একটি ঘর বানাল
আর তাকে বাড়ি বলে ডাকল।
দশ
বাতাস হতে চেয়েছিলাম তোমার চুলের—
কিন্তু আমি আটকে থাকি ঝোপঝাড়ের মধ্যে।
এগারো
পাতারা ঝরে পড়ে
বাতাসের বিদায়ে।
বারো
চোখ বন্ধ করলেই
তুমি লুকিয়ে পড়ো
আর যখন আমি তোমাকে খুঁজি—
তখনই তুমি দেখতে পাও আমাকে।
তেরো
অশ্রুর অর্থ যায় না বোঝানো
সে কেবল
পাথরের বুক চিঁড়ে এগিয়ে যাও
নদীর মুখ।
চৌদ্দ
তুমি আমার ভেতরে আগুন ধরাও,
তারপর লাফ দিয়ে সরে যাও
নিজে না পুড়ে।
পঁনেরো
যখন কবিতা লিখি,
তা হয়ে ওঠে একখানা সংকেত—
আমার প্রিয়
এখনো এসে পৌঁছায়নি।
ষোলো
কিছুই নেই
যেখানে আমি সান্ত্বনা খুঁজে পেতে পারি—
সতেরো
মাছ কি জল নিয়ে তর্ক করে?
গ্লাস কি পাথরের আঘাত ছাড়া ভাঙতে পারে?
আঠারো
তোমার আগে এসেছিল
তোমার সুগন্ধ—
আর তুমি চলে গেলে
তোমার সুগন্ধেরও আগে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন