× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

বিমানবন্দরের অকশন কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণা, চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয়ে স্বল্পমূল্যে আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য দামি ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮)। তিনি ঢাকার ডেমরা এলাকার বাসিন্দা। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনসের একটি দল রোববার (৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী। প্রতারক চক্রটি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা এবং পরে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা হবে।

বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা আরও জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবীমার পলিসি নিতে আগ্রহী। পরে তারা ভুক্তভোগীকে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) ভুয়া কাগজপত্র ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সরবরাহ করে।

এসব নথিতে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ কেনার জন্য বিভিন্ন ধাপে দুটি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে মোট ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা নেওয়ার পর প্রতারকরা কোনো পণ্য সরবরাহ না করে নানা অজুহাত দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তদন্তের মাধ্যমে ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং সাতটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে এবং জাল নথিপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করত। এরপর বিমানবন্দরের অকশনে স্বল্পমূল্যে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত।

তদন্তে চক্রটির অন্যান্য সদস্য, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার এর আগেও রাজধানীর ভাটারা থানার একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন, অনলাইনে পাওয়া কথিত সরকারি অনুমোদনপত্র কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবসায়িক প্রস্তাবে বিশ্বাস করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছে সিআইডি। একই সঙ্গে যেকোনো বিনিয়োগ বা পণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!