আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ‘ইনটেরিম তুমি যেও না, এই নির্বাচন হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী।
এর মধ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকার কারণে কোনো নির্বাচনই সম্ভব নয়।
এর মধ্যেই শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলসংলগ্ন সড়ক থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এ সময় জলকামানও ব্যবহার করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।
সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএসসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে হত্যার বিচার দাবি জানাতে গেলে পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করে উল্টো আন্দোলনকারীদের ওপর দমন–পীড়ন চালানো হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ দাবি করেছে, জননিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা বাধ্য হয়ে বলপ্রয়োগ করেছে। তবে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।

