রমজানের মাত্র তৃতীয় দিন, তাতেই চিরচেনা রূপে ফিরেছে পুরান ঢাকার চকবাজার। জোহরের নামাজের রেশ কাটতে না কাটতেই শাহী মসজিদ সংলগ্ন সার্কুলার রোডে শুরু হয় উৎসবের আমেজ।
একদিকে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’-এর হাঁকডাক, অন্যদিকে শাহী জিলাপি আর কাবাবের ম ম সুবাস—সব মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন এক বিশাল ভোজনশালায় পরিণত হয়েছে।
এবারের বাজারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ১০ হাজার টাকা দামের আস্ত খাসির কাবাব। বিশাল আকৃতির এই কাবাবটি ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে। বিক্রেতা জানান, সবাই কিনবে না জানি, কিন্তু এই রাজকীয় খাবার দেখতেই মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। এটাই চকের ইফতারির বিশেষত্ব!
বাজার ঘুরে দেখা গেল, ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিক ইফতারির পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজারে চিকেন ললিপপ ৫০ টাকা, কাঠি কাবাব ৬০ টাকা এবং গরুর কালা ভুনা পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকার প্যাকেটে।
এ ছাড়াও নান-রুটির মধ্যে দুধ নান ৬০ টাকা, গারলিক নান ৭০ টাকা এবং স্পেশাল বাদাম নান ৮০ টাকা। ভারী আইটেমে খাসির লেগ ৮০০ টাকা, গরুর সুতি কাবাব কেজি ১,২০০ টাকা ও খাসির সুতি কাবাব ১,৬০০ টাকা। চিকেন তাওয়া ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সায়েন্সল্যাব থেকে আসা ক্রেতা আবদুল হক ঐতিহ্যের টানে প্রতি বছরই এখানে আসেন। তবে এবার কিছুটা অসন্তোষ নিয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগ জিনিসের দাম না বাড়লেও মুরগি আর কোয়েলের আইটেমে একটু বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। ভিড় বাড়লে বিক্রেতারা অনেক সময় সুযোগ নেন।
অন্যদিকে, বিক্রেতা মো. আতিক হোসেনের দাবি, বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় মুরগির আইটেমে সামান্য প্রভাব পড়েছে, বাকি সব আগের মতোই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে।
শুধু স্থানীয়রাই নন, চকবাজারের টানে নিউমার্কেট বা উত্তরা থেকেও ছুটে আসছেন অনেকে। নিউমার্কেট থেকে আসা এক ক্রেতার মতে, চকবাজারের ইফতারি শুধু খাবার নয়, এটা একটা সংস্কৃতি। ঐতিহ্যের এই স্বাদ অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।
বিক্রেতারা জানান, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড় আরও বাড়বে এবং এই উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে পুরো মাসজুড়ে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন