দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এবারের ঈদে সরকারি ছুটি ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ৯ দিন নির্ধারিত হয়েছে। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা।
শুক্রবার (৫ মার্চ) ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়াসহ বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ছুটির দিন হওয়ায় বিভিন্ন বয়সী শিশুর ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ সব দোকান। সবার একটাই চাওয়া, ঈদে পছন্দের ডিজাইন আর বাহারি রঙের পোশাক। শিশুদের চাহিদা মেটাতে দেশি-বিদেশি পোশাকের পশরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। রয়েছে ৬ মাস থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত বয়সীদের বিভিন্ন ডিজাইনের ড্রেস। রয়েছে বাবা-মায়ের সাথে ম্যাচিং করে জামা কেনার সুযোগও।
এবারে ঈদে তরুণ-তরুণীদের একটি অংশ দেশিয় ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকলেও বেশিরভাগ নারী তরুণীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে ভারতীয় ও পাকিস্তানি থ্রি-পিস, বিশেষ করে ‘ফারসি ড্রেস’ বা গর্জিয়াস থ্রি-পিসের প্রতি আকৃষ্টতা দেখা গেছে। আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সুতি, জর্জেট ও নেট কাপড়ের কারুকাজ করা ভারতীয় থ্রি-পিস যেমন তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে তেমনি অনেকেই আবার পাকিস্তানি থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা ও গাউনের চাহিদার কথাও তুলে ধরেছেন।
তরুণীরা বলেন, গত দুই ঈদে দেশের পরিস্থিতির কারণে মার্কেটগুলোতে ভারতীয় পোষাকের অবস্থান অনেকটাই তলানিতে ছিল। কিন্তু এবারে ভারত, পাকিস্তান দুই দেশের পোষাকেই কাপড়ের মান ও কারুকাজ তাদের বিপুলভাবে আকৃষ্ট করছে। বিক্রেতারা বলছেন, এবছর রোজার শুরু থেকেই কেনাকাটা বেশ ভালো, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিবছর সাধারণত ঈদের আগমুহূর্তে ভিড় বাড়লেও এবার শুরু থেকেই ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের দোকানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঈদে উচ্চবিত্তের কেনাকাটা ঝলমলে শপিং মলে সীমাবদ্ধ থাকলেও, সাধারণ খেটে খাওয়া ও মধ্যবিত্ত মানুষের ঈদের আনন্দ এখনো মিশে আছে ফুটপাতের প্রতিটি দোকান। ব্র্যান্ডের প্রতি ঝোঁক থাকলেও সাধ্যের সীমাবদ্ধতায় বড় বড় বিপণিবিতানে যাওয়ার সাহস পান না অনেকেই। আকাশচুম্বী বাজারদরের এই সময়ে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ফুটপাতই এখন কেনাকাটার প্রধান কেন্দ্র।
গুলিস্তানে কেনাকাটা করতে আসা সাজেদা বেগম বলেন, স্বামী, ছেলে, মেয়ে ও নিজের জন্য পোশাক কিনতে এসেছি। ফুটপাতেও অনেক সময় ভালো কিছু পাওয়া যায়। তবে দেখে কিনতে হয়। আবার কিছু জিনিস মার্কেট থেকেও কিনব। যেখানে যেটা ভালো পাই নেব।
বায়তুল মোকাররমের পশ্চিম পাশের ফুটপাতে পাঞ্জাবির দোকানি আওলাদ হোসেন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঋণ করে দোকানে মাল তুলেছি। ঈদের পরপরই সেই ঋণ শোধ করতে হবে। এজন্য লাভ কম হলেও পণ্য বিক্রি করছি। আশপাশের অন্য দোকানিরাও কম লাভেই বিক্রি করছে।



