রাজধানীতে আবারও গ্রাহককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এবার পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড় এলাকায় জনসন রোডে অবস্থিত স্টার হোটেলের একটি শাখায় এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, শনিবার (৭ মার্চ) ইফতারের সময় রেস্টুরেন্টের ভেতরে এক গ্রাহককে চেয়ার ও পানির বোতল দিয়ে মারধর করেন অন্তত ১০ জন কর্মী। এ সময় এক কর্মী ওই গ্রাহকের মাথায় কাচের গ্লাসও ছুড়ে মারেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুরান ঢাকার জীবনযাত্রা নিয়ে পরিচালিত ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপ ‘ঢাকাইয়াস্থান গ্রুপ’-এ শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি পরা এক গ্রাহককে স্টার রেস্টুরেন্টের কয়েকজন কর্মী মারধর করছেন। এক পর্যায়ে একজন কর্মী তাকে কিল-ঘুষি মারেন, আরেকজন চেয়ার দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে আরেক কর্মী তার দিকে কাচের গ্লাস ছুড়ে মারেন। ভিডিওতে মারধরে জড়িত ব্যক্তিদের স্টার রেস্টুরেন্টের নির্ধারিত পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটির শেষ দিকে ঘটনাস্থলে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার বিষয়ে ‘ঢাকাইয়াস্থান গ্রুপ’-এর অ্যাডমিন রকি ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ঘটনাটি আজ সন্ধ্যায় পুরান ঢাকায় কোর্ট-কাচারির ঠিক উল্টো পাশের শাখায় ঘটেছে। আমাদের গ্রুপের এক সদস্য সাধারণ গ্রাহকের মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হট্টগোল শুনে কাছে গিয়ে তিনি মারামারির ঘটনা দেখতে পান এবং তখন ভিডিও ধারণ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে ভিডিও ধারণকারীর বরাত দিয়ে রকি ইসলাম বলেন, ওই গ্রাহকের সঙ্গে রেস্টুরেন্টের এক কর্মীর কথা কাটাকাটি হয়েছিল। সেখান থেকেই পরিস্থিতি মারামারিতে গড়ায়। তবে কী বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ওই শাখায় এর আগেও গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেহেতু তাদের গ্রুপে পুরান ঢাকার জীবনযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়, তাই অনেক সদস্যই এ ধরনের ঘটনা সেখানে তুলে ধরেন।
এদিকে মারধরের শিকার গ্রাহকের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গ্রাহক হয়রানি ও মারধরের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজধানীর বনানী শাখায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মারধরের শিকার হন সাংবাদিক সালেহ মোহাম্মদ রশিদ অলক। সে সময় তিনি গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। পরে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে এক হাজার এতিম শিশুকে একবেলা খাবার খাওয়ানোর শর্তে অভিযুক্তদের ক্ষমা করে দেন তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন