গতকাল রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। তারা দাবি করেছে, বসিলা পশুর হাট নিয়ে বিরোধের জেরে টিটনকে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। মামলার পরই খুলতে শুরু করে এ হত্যাকাণ্ডের জট।
উল্লেখ্য, মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
টিটনকে আকস্মিকভাবে হত্যা করা হয়নি; তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বিভিন্ন সংবাদম্যাধমের সূত্র বলছে, বসিলা গরুর হাটকে ঘিরেই মূলত এই হত্যাকাণ্ডের নকশা সাজানো হয়।
জানা যায়, বসিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল বা কাইলা বাদল, শাহজাহান এবং রনি ওরফে ডাগারি রনির সঙ্গে বিরোধ চলছিল এমন উল্লেখ রয়েছে মামলায়।
সেই হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধ মেটানোর কথা বলে টিটনকে ডেকে নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে সূত্রগুলোর দাবি।
মামলার এজাহার ও সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গরুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েকদিন ধরে টিটনের সঙ্গে পিচ্চি হেলালের উত্তেজনা চলছিল। বিরোধ মেটানোর কথা বলে পিচ্চি হেলাল নিজে ও তার ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার রাতে টিটনকে নিউমার্কেট এলাকায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। টিটন সরল বিশ্বাসে বা সমঝোতার আশায় সেখানে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ঘাতক দল তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ দিন রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় শহীদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন সড়কে টিটনকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার সত্যতাও নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব।
পুলিশ জানায়, ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে ছিলেন টিটন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পান।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসীদের হাতেই তিনি নিহত হয়েছেন।
টিটনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বসিলা পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পরিবারের ধারণা।
এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘসময় কারাভোগের পর গত বছরের ১৩ আগস্ট টিটন জামিনে মুক্তি পান। এরপর মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতীতে পরিবারের সম্মানহানি ও আর্থিক ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সৎ পথে জীবন গড়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।
কয়েকদিন আগে টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন, তিনি হাটের ইজারা সংক্রান্ত কাগজপত্র (শিডিউল) কিনেছেন এবং ব্যবসা করতে চান।
গত ২৬ এপ্রিল টিটন তার ভাইকে জানান, বসিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে পিচ্চি হেলাল, বাদল, শাহজাহান ও রনির সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। পরদিন ২৭ এপ্রিল তিনি জানান, বিরোধ মিটিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য তাকে একটি বৈঠকে ডাকা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্থানীয় গ্যাং সদস্য হিসেবে টিটন অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটান এবং অস্ত্র চোরাচালানের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে ঢাকা সেনানিবাস এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

