টানা ভোরের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ছুটির দিনের সকালেই বাজারমুখী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁওসহ বেশ কিছু এলাকায় সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় কাদাময় ও নোংরা পানি পেরিয়ে বাজারে যেতে হয়েছে ক্রেতাদের। তবে এত ভোগান্তির পরও বাজারে গিয়ে মিলছে না স্বস্তি— সবজির দাম এখন অনেকটাই চড়া, বিশেষ করে বেগুন ও কাঁকরোলের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, চিকন বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, আর বড় আকারের গোল বেগুনের দাম উঠেছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ফলে এই দুই সবজিই এখন শতকের ঘর পেরিয়ে ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
শুধু বেগুন বা কাঁকরোল নয়, অন্যান্য সবজির বাজারও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। টমেটো, বড়বটি, পটোল, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স, করলা প্রায় সবকিছুর দামই সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি। কাঁচা মরিচের কেজি ১২০ টাকা, আর লাউ ও কাঁচকলার দামও বেড়েছে। ফলে দৈনন্দিন রান্নার খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা, আর সোনালি মুরগির দাম ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক ব্যয় আরও বেড়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাজারে গিয়ে অনেকেই বলছেন, কষ্ট করে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত দামে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে সংসারের বাজেট ভেঙে পড়ছে।
অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পাইকারি বাজারেই সবজির দাম বেড়েছে। পরিবহন ব্যয়, রাস্তার সমস্যা এবং সম্ভাব্য ফসল ক্ষতির আশঙ্কায় সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ জোরদার করা হলে মূল্য পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। পাশাপাশি বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে নগরজীবনের এই দুর্ভোগ আরও তীব্র হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন