রাজধানীতে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কর্মকর্তাদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এ কর্মশালায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সড়ক নিরাপত্তায় বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি’ (বিআইজিআরএস)-এর আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়কের বাম পাশের লেন সচল রাখা, উল্টো পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি থামানো রোধে ট্রাফিক পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি জানান, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শিগগিরই প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২০ বছরের বেশি পুরোনো, ফিটনেসবিহীন ও অকেজো যানবাহন চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যত্রতত্র গাড়ি থামানোও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা উভয়ই কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া ভবিষ্যতে যানবাহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চালক, মালিক এবং সাধারণ সড়ক ব্যবহারকারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আনিছুর রহমান বলেন, সব পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া নগরীতে টেকসই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা জানান, বিআইজিআরএস প্রকল্পের আওতায় জিআরএসপির সহায়তায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বিমানবন্দর সড়ক, ৩০০ ফিট সড়ক ও লেক রোডে পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। এসব সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার অন্যান্য বিষয়ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিআইজিআরএস কোঅর্ডিনেটর ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করেছে। সিটি করপোরেশন এলাকার এক্সপ্রেসওয়ে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং অধিকাংশ অন্যান্য সড়কে ৩০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। শহর এলাকায় মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চ গতিও ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার।
মো. আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-এডমিন, প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ) মিনা মাহমুদা এবং জিআরএসপির সিনিয়র রোড পুলিশিং উপদেষ্টা পিটার জোনস। অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের কনসালট্যান্ট ফারজানা ইসলাম তমা, বিআইজিআরএসের বিভিন্ন সমন্বয়কসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন জিআরএসপির প্রশিক্ষক পিটার জোনস। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের গুরুত্ব, অতিরিক্ত গতির ঝুঁকি, গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সড়কের পাশের চেকপয়েন্টের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণে অডিওভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, গ্রাফ ও আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ট্রাফিক সার্জেন্ট, উপ-পরিদর্শক, পরিদর্শক, সহকারী ও উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ৩০ জন কর্মকর্তা এবং ডিএনসিসির ৫ জন প্রকৌশলী অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন