ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাজধানীতে টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫১ হাজার সিম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
টেলিগ্রাম প্রতারক। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বসুন্ধরা ও উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ চীনা নাগরিকসহ টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন : চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া (২৬), নিয়াজ মাসুম (২০) এবং কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন ও ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনলাইনে চাকরিসংক্রান্ত প্রতারণা, টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতারণাসহ বিভিন্ন প্রতারণাসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। ওই প্রতারক চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণায় জড়িত মো. নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের মোট ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, ৪টি মোবাইল ফোন, ২টি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।


 
মামলাটির তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও অনলাইন প্রতারক চক্র রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টর থেকে পাঁচজন বিদেশি নাগরিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল, বিভিন্ন অপারেটরের ১৮৪টি সিম, পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
 
ডিবি সাইবার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। গ্রেপ্তার নিয়াজ ও হাসান জয়কে আগেই আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।