যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, পাশাপাশি এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোলমস আলজাজিরাকে বলেন, বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এলেও যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে ইসরায়েল, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থানের ওপর। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানান, আলোচনায় এখনো বড় ধরনের ফাঁক রয়ে গেছে এবং বাজার বর্তমানে ‘অপেক্ষা করে দেখার’ অবস্থানে রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৩৫ ডলারে।
এদিকে, এশিয়ার শেয়ারবাজারেও বড় উত্থান দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায় লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান না হলে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর এশিয়ার দেশগুলো এ ধরনের অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে।


