রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নির্মিত দেশের প্রথম সম্পূর্ণ ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্য ও উন্নত নির্মাণ প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি দেশের আবাসন ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের সর্বোচ্চ তলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে শান্তা হোল্ডিংস। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ভূমির মালিক, ক্রেতা এবং বিশিষ্ট স্থপতি এহসান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আন্তর্জাতিক মানের ভবনটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্কাইস্ক্র্যাপার হিসেবে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। শুধু একটি প্রকল্পের সমাপ্তিই নয়, বরং বিশ্বমানের বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতাকেও এটি তুলে ধরেছে।
পরিবেশবান্ধব নির্মাণের দিক থেকেও ‘পিনাকল’ একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ভবনটি লিড প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত, যা টেকসই স্থাপনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। পাশাপাশি এনএফপিএ’র আধুনিক অগ্নি-নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং সিঙ্গাপুরের মেইনহার্ডের সহায়তায় এর কাঠামো ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তোলা হয়েছে।
নির্মাণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পে এসেছে নতুনত্ব। অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে একটি স্ল্যাব সম্পন্ন করার নজির স্থাপন করা হয়েছে। শক্তি সাশ্রয়ী সেন্ট্রিফিউগাল চিলার, পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট এবং উন্নত মানের বায়ু পরিশোধন ব্যবস্থা ভবনের অভ্যন্তরে আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করে।
এছাড়া দেশে প্রথমবারের মতো উইন্ড টানেল টেস্টিং প্রয়োগ, উন্নত গ্লেজিং প্রযুক্তি, দ্রুতগতির আটটি লিফট এবং সমন্বিত আইবিএমএস সিস্টেম ভবনটির কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি করেছে।
প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন শান্তা হোল্ডিংসের মানসম্মত নির্মাণ ও আধুনিক চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আরও প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


