ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইউজিসিতে অফিসার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১২:৪১ এএম
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর সাম্প্রতিক অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অস্বাভাবিক দ্রুততায় পছন্দের জনবল নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কমিশনের ইতিহাসে এত দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া আগে দেখা যায়নি বলে তারা দাবি করছেন।

সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ইউজিসি/প্রশাঃ/১২১(১২)/২০১৮/২৩১৭ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডের ২২টি পদসহ মোট ৩৮টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিটি ইউজিসি ওয়েবসাইটে এবং ১২ আগস্ট দৈনিক আমার দেশ ও দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালক, একাউন্টস অফিসার, বাজেট অফিসার ও অডিট অফিসার পদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ এবং স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.২৫ নির্ধারণ করা হয়।

টেকনিক্যাল পদগুলোর ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০০ এবং স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.২৫ নির্ধারণ করা হয়। এই যোগ্যতাকে অনেক চাকরিপ্রার্থী অযৌক্তিক ও বিসিএস পরীক্ষার তুলনায় কঠোর বলে দাবি করেন এবং সরকারের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (GRS)-এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে এইজিসি/প্রশাঃ/১২১(১২)/২০১৮/২৬৪৬ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে যোগ্যতা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সকল পদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৩.২৫ এবং স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.০০ নির্ধারণ করা হয়, যা ৫ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

সংশোধনের পর টেকনিক্যাল পদগুলোর (বিজ্ঞপ্তির ক্রমিক ২–৮) নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। ৫ ও ৬ ডিসেম্বর এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, পরীক্ষার দিনই ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর ৭ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নির্বাচন সম্পন্ন করে পরদিনই বিশেষ কমিশন সভায় তা অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব ফলাফল এইজিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে, সহকারী সচিব/সহকারী পরিচালক পদের জন্য সাত হাজারের বেশি প্রার্থীর এমসিকিউ পরীক্ষা ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ইনকিলাব মঞ্চের এমপি প্রার্থী ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিক্ষোভের কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তারিখ হিসেবে ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়।

ইউজিসি একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কমিশনের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার নজির নেই। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান নিজের পছন্দের কয়েকজন শিক্ষককে প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এতে সহযোগিতা করেছেন আরেক সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। সূত্র মতে, অন্য সদস্যদের এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হয়নি এবং চেয়ারম্যানের সম্মতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়।

ইউজিসির অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী প্রারম্ভিক স্তরে এত সংখ্যক নিয়োগ ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ইউজিসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা সেন্ট্রাল মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগ নিষিদ্ধের মতো ঘটনাগুলো কমিশনের অনিয়মের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের সাম্প্রতিক ড্রাফট অর্ডিন্যান্সে এইজিসিকে নতুন একটি সংস্থা দিয়ে প্রতিস্থাপনের প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউজিসি একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী নতুন কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই নিয়োগ সম্পন্ন করার চেষ্টা উদ্দেশ্যমূলক বলে তাদের আশঙ্কা। বিষয়টি উচ্চশিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তুলেছে এবং সরকারের কাছে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে।