দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য শূন্যপদের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ইএমআইএস সেল সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এসব শূন্যপদ মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রকৃত শূন্যপদের সংখ্যা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, এনটিআরসিএর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের লক্ষ্যে শূন্যপদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, স্নাতক (পাস) কলেজে বর্তমানে শূন্য রয়েছে ৫৮৪টি অধ্যক্ষ এবং ৬২৭টি উপাধ্যক্ষ পদ। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শূন্য রয়েছে ৭৬৮টি অধ্যক্ষ পদ।
মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শূন্য রয়েছে ৩ হাজার ৯২৩টি প্রধান শিক্ষক এবং ৩ হাজার ৮৭২টি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ। এ ছাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্য রয়েছে ৫০৪টি প্রধান শিক্ষক পদ।
সব মিলিয়ে প্রাথমিক হিসাবে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পর্যায়ের শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়। মাঠপর্যায়ে ভেরিফিকেশন শেষে শূন্যপদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। কারণ, অনেক পদ নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান থাকায় সেসব পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগ সম্পন্ন হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও অনুমোদন এখনো না হওয়ায় ওই পদগুলোকে আপাতত শূন্য হিসেবে দেখানো যাবে না। এসব কারণে যাচাই-বাছাই শেষে শূন্যপদের সংখ্যা কিছুটা কমে আসতে পারে।
এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের জন্য শূন্যপদের তালিকা অনলাইন সফটকপির মাধ্যমে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংশ্লিষ্ট চিঠিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান-সহপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম এনটিআরসিএর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নির্ভুল শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা জরুরি বলে জানানো হয়।
এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন সফটকপিতে নির্ধারিত তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। যেসব তথ্য দিতে হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— সংশ্লিষ্ট অথরিটির নাম, ডিএন কোড, প্রতিষ্ঠানের নাম, জেলা কোড, জেলার নাম, থানা কোড ও থানার নাম।



