সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ফল আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
সূত্রটি আরও জানায়, ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এখনো নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ফল প্রকাশের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান দুপুরে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ফল প্রকাশের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো টাইমফ্রেম জানাতে চাই না। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল খুব দ্রুতই প্রকাশ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। এজন্য কিছুটা সময় লাগলেও পরীক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষা। সারা দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে একযোগে আয়োজিত এ পরীক্ষায় প্রায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ লাখেরও বেশি প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণের কারণে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ লক্ষাধিক প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের গুঞ্জন ও তথ্য ছড়ালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে বারবার গুজব বলে অভিহিত করে আসছে।
এর আগে, ২০২৪ সালে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।



