ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শিক্ষকদের বদলির নতুন নিয়মে স্বামী-স্ত্রীর জন্য রয়েছে বিশেষ সুযোগ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছবি : সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বদলি নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নীতিমালায় নিজ জেলায় বদলির পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল বিবেচনায় বদলির সুযোগ থাকছে। এ সুবিধা নারী ও পুরুষ উভয় শিক্ষকের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, নতুন নীতিমালায় ‘স্পাউজ কোটা’ যুক্ত করা হলেও এ ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলকে ভিত্তি করে বদলির আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে এবং বদলি প্রক্রিয়া সহজ হবে।

শর্ত অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রীকে অবশ্যই ইনডেক্সধারী হতে হবে এবং তিনি সরকারি, আধা সরকারি অথবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে তার কর্মস্থল বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকার স্বামী বা স্ত্রী যদি প্রাইভেট চাকরি, ব্যাংক কিংবা অন্য কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হন, সে ক্ষেত্রে এই স্পাউজ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

এদিকে বহু প্রতীক্ষিত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজেও অগ্রগতি এসেছে। বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং কারিগরি সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটক লিমিটেডের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দৈনিক শিক্ষা ডটকমকে জানান, এখন কেবল সংশোধিত বদলি নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। নীতিমালা প্রকাশের পর সে অনুযায়ী সফটওয়্যার কার্যক্রম চালু করা হবে এবং বদলি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ চলমান। এর ধারাবাহিকতায় শুধু এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য নয়, বরং সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকের জন্য একটি সর্বজনীন বদলি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই উদ্দেশ্যে একক সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়, যার দায়িত্ব দেওয়া হয় টেলিটক লিমিটেডকে।

জানা গেছে, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আগে বদলির কোনো সরাসরি সুযোগ ছিল না। তারা প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেই সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলন ও দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেয় এবং একটি বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করে। তবে শিক্ষকদের এক পক্ষের রিট মামলা, সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া, নীতিমালায় সংশোধনের প্রয়োজনসহ বিভিন্ন কারণে এখনো পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নীতিমালায় নিজ জেলা ও স্বামী-স্ত্রী ভিত্তিক বদলির সুযোগ যুক্ত হওয়ায় শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং খুব শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করা যাবে।