আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মেরামত ও সংস্কারকাজে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৯৪৭টি বেসরকারি স্কুল ও কলেজে মোট ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ভোটগ্রহণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক চিঠির মাধ্যমে এ বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একই তারিখের স্মারক অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার কাজ দ্রুত, সুষ্ঠু ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দ বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সভাপতি করে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেরামত ও সংস্কার কাজ তদারকি ও বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ পেয়েছে। এ অর্থ দিয়ে শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট, ছাদ, দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক লাইন, লাইট, ফ্যানসহ ভোটগ্রহণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ত্রুটি সংস্কার করা হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালন বাজেটের আওতায় এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে ব্যয় করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছে।
বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত মানতে হবে
বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেছে:
১. বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থ শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণ কাজে ব্যবহার করতে হবে।
২. তালিকাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
৩. অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
৪. ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি উদঘাটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যয় নির্বাহকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।
৫. বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে পূর্ববর্তী বছরের কোনো বকেয়া বিল পরিশোধ করা যাবে না।
৬. কাজ শেষে যদি কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকে, তা অবশ্যই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বরাদ্দের ফলে নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কার করা সম্ভব হবে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম আরও নিরাপদ, সুষ্ঠু ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন করা যাবে।


