বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি নতুন পদ্ধতির খসড়া পরিপত্র অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সদ্য জারি হওয়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এই নতুন নিয়োগ সুপারিশ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী ও মৌখিক পরীক্ষায় যাচাই হবে প্রার্থীর যোগ্যতা
খসড়া পরিপত্র অনুযায়ী, শূন্যপদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী (বাছাই) পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই দুই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।
১:১ অনুপাতে প্রস্তুত হবে মেধাতালিকা
মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে বিষয় ও পদভিত্তিক শূন্যপদের বিপরীতে ১:১ অনুপাতে মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে। বিধিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত এই মেধাতালিকাই হবে নিয়োগ সুপারিশের একমাত্র ভিত্তি।
মেধাতালিকা থেকে আবারও আবেদন
খসড়ায় বলা হয়েছে, মেধাতালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রার্থীদের কাছ থেকে পুনরায় নিয়োগ সুপারিশের জন্য আবেদন আহ্বান করা হবে। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
অনলাইনে আবেদন ও প্রতিষ্ঠান পছন্দের সুযোগ
আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দের তালিকায় রাখতে পারবেন। পছন্দের বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে আগ্রহী হলে অনলাইনে আবেদন ফরমের ‘অন্যান্য বিকল্প’ অপশনে সম্মতি দিতে হবে।
পছন্দ ও মেধার ভিত্তিতে সুপারিশ
প্রার্থীদের পছন্দক্রম ও মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে বিষয় ও পদভিত্তিক প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। যদি কেউ তাঁর পছন্দ অনুযায়ী কোথাও নির্বাচিত না হন, তবে ‘অন্যান্য বিকল্প’-এ সম্মতি থাকলে শূন্যপদ থাকা সাপেক্ষে স্থায়ী ঠিকানার নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁকে সুপারিশ করা হবে।
নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠান নির্ধারণে অগ্রাধিকার
এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারক্রম হবে— নিজ উপজেলা → নিজ জেলা → নিজ বিভাগ → সারা দেশ।
একাধিক সুপারিশ নয়
একই প্রার্থী যদি একাধিক পর্যায়ে নিয়োগ সুপারিশের জন্য নির্বাচিত হন, তবে কেবল সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুপারিশই কার্যকর হবে। অন্য সব নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে।
যোগদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা
- চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ সুপারিশপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছে পাঠানো হবে।
- সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে যোগদানের জন্য আবেদন করতে হবে
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে
- নিয়োগপত্র পাওয়ার পর ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রার্থীকে যোগদান করতে হবে
- জটিলতায় যোগদান না হলে পুনরায় সুযোগ
কোনো প্রার্থী শূন্যপদের ভুল তথ্য বা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার কারণে যোগদান করতে না পারলে বা যোগদানের পর এমপিওভুক্ত না হলে, যাচাই শেষে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের শূন্যপদে অগ্রাধিকারভিত্তিতে তাঁকে পুনরায় নিয়োগ সুপারিশ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রেও নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
একবারের ফলেই একবার সুপারিশ
খসড়া পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, ২০২৫ সালের বিধিমালার আওতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুত মেধাতালিকা থেকে একবারই নিয়োগ সুপারিশ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে একই ফলের ভিত্তিতে নতুন করে সুপারিশ দেওয়া হবে না, কেবল নির্দিষ্ট প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া ছাড়া।




