পবিত্র রমজান মাসে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তারা অবিলম্বে সরকারি চিঠি জারি করবে।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করব। তবে প্রথমেই হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি আমাদের কাছে পৌঁছানো জরুরি। আশা করছি, এটি খুব শিগগিরই হবে।’
এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল, বিশেষ করে রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার সরকারি চিঠি কখন জারি হবে তা নিয়ে। মাউশি সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হাইকোর্টের কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করবে।
হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে জানা যায়, রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকবে। রিটটি দায়ের করা হয়েছিল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নোটিশে বলেছে, দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলিম এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রথা রয়েছে। এটি শুধু একটি প্রচলিত রীতি নয়, বরং সংবিধান এবং আইনগতভাবে স্বীকৃত।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিশু-কিশোররা সারা দিন স্কুলে ক্লাসে অংশগ্রহণের ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে রোজা রাখার ক্ষেত্রে তারা কষ্টের সম্মুখীন হয় এবং রোজা রাখার অভ্যাসে বাধা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকলে শহরাঞ্চলে যানজট ও যাতায়াত সমস্যা তীব্র হয়, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্যও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই কারণে হাইকোর্ট স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
মাউশি কর্মকর্তা জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো মাত্রই তারা আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রস্তুত করবে এবং দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তা বিতরণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারি চিঠি খুব শিগগিরই জারি হবে এবং রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়টি কার্যকর হবে।
এই নির্দেশনা শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট বয়সি শিক্ষার্থীরা যাতে রোজা রাখতে পারার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসেও অংশ নিতে পারে এবং শহরের যানজট কম থাকে, সেজন্য হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন অনেক অভিভাবক।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন