বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট চারটি কারণে আবেদন করলেও অনেক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না।
রোববার (৬ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা থাকলে তিনি বদলির সুযোগ পাবেন না। এ ছাড়া শৃঙ্খলাজনিত কারণে কোনো শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেনশন) অবস্থায় থাকলে তিনিও বদলি হতে পারবেন না।
সূত্রটি আরও জানায়, কোনো কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন বন্ধ থাকলে তিনি বদলির আবেদন করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি, বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এসব বিষয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা যাচাই করবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষকদের বদলির জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই নীতিমালার আলোকে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নীতিমালার বাইরে বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন জমা দিলে সেটিও বাতিল হতে পারে।
এদিকে, গত শনিবার বদলি-সংক্রান্ত সফটওয়্যার নিয়ে আয়োজিত এক সভায় সফটওয়্যারের ১৪টি ধাপ উপস্থাপন করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জন্য চারটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে প্রদত্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। তৃতীয় ধাপে ড্যাশবোর্ড দেখা যাবে এবং চতুর্থ ধাপে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে।
এরপর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যক্রম শুরু হবে। তাকেও একইভাবে লিংকে প্রবেশ, লগইন এবং ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দেওয়া তথ্য অপেক্ষমান তালিকায় প্রদর্শিত হবে, যেখানে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
পঞ্চম ধাপে পদ ও শূন্যপদের তথ্য, ষষ্ঠ ধাপে শিক্ষকদের তথ্য এবং সপ্তম ধাপে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের তথ্য প্রদান করতে হবে। অষ্টম ধাপে সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট করতে হবে।
সফটওয়্যার অনুযায়ী, অপেক্ষমান তালিকা থেকে ভিউ বাটনে ক্লিক করে তথ্য দেখা যাবে। তথ্য সঠিক হলে অনুমোদন বাটনে ক্লিক করতে হবে, আর ভুল থাকলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। যাচাই সম্পন্ন হলে তালিকাটি ডাউনলোড করা যাবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উপজেলা পর্যায় থেকে পাঠানো তথ্য পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে আপডেট করবেন। এরপর জোনাল বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালকেরা চূড়ান্তভাবে তথ্য যাচাই করে তা হালনাগাদ করবেন।


