গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনেক সিনিয়র, যোগ্য ও অভিজ্ঞ অধ্যাপক রয়েছেন, যারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগ্য প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হলে তা শিক্ষক সমাজের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, মেধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে। এটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিরাগত কোনো শিক্ষককে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে শিক্ষক সমিতির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কৃষি ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) শিক্ষা, গবেষণা ও বহিরাঙ্গন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশের কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে ড. এম. ময়নুল হককে নিয়োগ দেয়।
এছাড়া বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বর্তমান প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরকে পদ থেকে অপসারণ করে যোগ্য শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গাকৃবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে কৃতিত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন, কিউএস র্যাংকিং ও ইউআরএপি র্যাংকিংসহ বিভিন্ন সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থান অর্জন করছে এবং লাইফ সায়েন্স ক্যাটাগরিতে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ৯৭টি উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত এবং ১৬টি যুগোপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. এম. ময়নুল হকের নিয়োগ বাতিল করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী কোনো যোগ্য অধ্যাপককে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য গাকৃবি শিক্ষক সমিতি বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের কৃষি ও শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়নে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


