× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

চমেকে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্লান্টটি উদ্বোধন করা হয় । ছবি : সংগৃহীত

ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্লান্টটি উদ্বোধন করা হয় । ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) আগত রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা চালু করেছে দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করার সুযোগ পাবেন। চমেক একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন এখানে বিপুলসংখ্যক রোগী ও স্বজনের ভিড় থাকে। অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের।

রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচতলায় পানির প্ল্যান্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মো. শামসুল আলম। এ সময় ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্লান্টটি উদ্বোধন করেন চমেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, এমন মহান উদ্যোগে আমাদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনকে প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই। এই কাজটি সম্পূর্ণ সদকায়ে জারিয়াহ। মানুষকে পানি পান করানো অনেক সওয়াবের কাজ।

চমেক কর্তৃপক্ষও ওই প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন, তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সবাই আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজটি করেছি। আল্লাহ আমাদের এই কাজকে কবুল করুক, আমিন। ভবিষ্যতেও এমন কাজে আমরা ফাউন্ডেশনের পাশে আছি। 

মূল উদ্যোক্তা ও দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদ বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বিশুদ্ধ পানি অন্যতম। বিশেষ করে একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সেই জায়গা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন- বিশেষ করে প্রধান অতিথি আলহাজ মো. শামসুল আলম, চমেক কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আমাদের সব স্বেচ্ছাসেবকের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।

ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে, মানবতার সেবায় এবং সমাজের প্রয়োজনীয় এমন আরও কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে যাবে। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক জিনিসই অপ্রতুল। প্রতিদিন এখানে বিপুলসংখ্যক রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

তাদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এতদিন চ্যালেঞ্জের ছিল। দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন যে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আজ এই বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনরা উপকৃত হবেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।

আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে আসবে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময় মানবিক উদ্যোগের পাশে থাকবে। এই উদ্যোগ যেন দীর্ঘদিন সুচারুভাবে পরিচালিত হয়- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগে বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনে আনতে হতো। এখন প্রতিটি ফ্লোরেই সহজে বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়া যাবে, যা অনেক স্বস্তির। বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ এর অবসান ঘটেছে। 

প্ল্যান্টটি থেকে হাসপাতালের ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে মিলিয়ে পুরো ভবনে মোট ৪০টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রোগী ও স্বজনদের পানির জন্য আর বাইরে যেতে না হয় বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয়। এ বিশুদ্ধ খাবার পানি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রদান করা হবে। পুরো প্রজেক্টটি সচল রাখার জন্য একজন মানুষকে মাসিক বেতনভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১ লাখ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম। পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক সময় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ ছাড়াও হাসপাতালের আশপাশের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে পানির বোতল বিক্রিতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বহুদিন ধরে। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান এনে দিয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!