ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘ইলেভেট’ বিজনেস প্রোটোটাইপ শোকেস রাউন্ড অনুষ্ঠিত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘ইলেভেট’ শীর্ষক বিজনেস প্রোটোটাইপ শোকেস রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ইয়াং এন্টারপ্রেনিউরস সোসাইটি (এনএসইউ ইয়েস!) আয়োজিত এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর উপস্থাপনায় আয়োজিত এ আয়োজনটি ছিল এন্টারপ্রেট সিজন থ্রি-এর তৃতীয় রাউন্ড।

অনুষ্ঠানে ২৪টি সেমিফাইনালিস্ট দল তাদের উদ্যোক্তা উদ্যোগ উপস্থাপন করে। প্রোটোটাইপ, সার্ভিস মডেল এবং কনসেপ্টুয়াল বিজনেস ডেমনস্ট্রেশনের মাধ্যমে দলগুলো তাদের ব্যবসায়িক ধারণা তুলে ধরে। সহ-স্পন্সর হিসেবে ছিল গোল্ড কিনেন, পাওয়ার্ড বাই হিসেবে কৃষিবিদ গ্রুপ, ড্রিভেন বাই হিসেবে এআইএ ভেঞ্চারস এবং সহযোগী হিসেবে ছিল নূর ইউনিক বিল্ডার্স।

একটি ওপেন উদ্যোক্তা মেলা হিসেবে পরিকল্পিত এই ইলেভেট রাউন্ডে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং দর্শনার্থীরা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান। শোকেসে অংশ নেন ছাত্র উদ্যোক্তা, যুব নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠাতা এবং টেকসই ব্যবসায়িক ধারণাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা, যাদের অনেকেই তাদের আইডিয়াকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন। হ্যান্ডস-অন ডেমনস্ট্রেশনের মাধ্যমে তারা তাদের ধারণার কার্যকারিতা, স্কেলযোগ্যতা এবং বাস্তব জীবনের প্রভাব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরিতে অভিজ্ঞতা ও প্র্যাকটিসভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এন্টারপ্রেটের মতো প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের ধারণা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করে, যা ইনোভেশন, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলে।

এ সময় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইলেভেট-এর মতো উদ্যোক্তা শোকেস শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের তাদের ধারণা আরও পরিশীলিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এনএসইউ ইয়েস!-এর ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজর ও সিনিয়র লেকচারার মির্জা এম. ফেরদৌস। তিনি বলেন, ইনোভেশন ও ইমপ্যাক্টের পাশাপাশি যেকোনো ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক টেকসইতা। সুস্পষ্ট ফিনান্সিয়াল স্ট্রাকচার ছাড়া একটি উদ্যোগ স্কেল করা অত্যন্ত কঠিন। পাশাপাশি তিনি উদ্যোক্তাদের জন্য পারসিস্টেন্স বা স্থায়িত্বকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মোট পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কারমূল্য নিয়ে এন্টারপ্রেট সিজন থ্রি তরুণ ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের বিকাশে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ইলেভেট রাউন্ড সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিযোগিতাটি এখন চূড়ান্ত পর্বের দিকে এগোচ্ছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি এন্টারপ্রেট সিজন থ্রি-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ফাইনালিস্ট দলগুলো সম্মানিত বিচারক ও ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের সামনে তাদের উদ্যোগ উপস্থাপন করবে।