নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয়করণের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনের পদত্যাগ দাবিতে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত দেড় বছরে নিয়োগ পাওয়া ৩৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩১ জনই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একইভাবে ২১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯ জন এবং ৬৯ জন কর্মচারীর মধ্যে ৫৫ জন একই রাজনৈতিক ঘরানার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়। নিয়োগে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্য উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতির শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেন। এতে আইন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলা হয়।
ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী বণ্টন নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। তাদের দাবি, সাধারণ শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ ২৬ হাজার টাকার বিপরীতে উপাচার্য নিয়েছেন ২ লাখ ১৫ হাজার, উপ-উপাচার্য ২ লাখ ১০ হাজার এবং ট্রেজারার ২ লাখ ৮ হাজার টাকা। ভর্তি–সংক্রান্ত আইটি খাতে ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকার চেক ইস্যু করে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়। উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল কাউয়ুম মাসুদ বলেন, সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষার্থী–বান্ধব পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। মানসম্মত শিক্ষক ও নারী শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে তারা জানান।
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের নেতারাও প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, “হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট অনেকে রিজেন্ট বোর্ডে ছিলেন। তখন কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। এখন এসব অভিযোগের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ।”
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে নোবিপ্রবির পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত। সাদা দলের আল্টিমেটামের মধ্যে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের।

